দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০০ সালে যখন মধ্যপ্রদেশ থেকে ভেঙে ছত্তিসগড় রাজ্য তৈরি হল, তিনি ছিলেন প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে একসময় সরে গিয়েছেন নিজের দল কংগ্রেস থেকে। তৈরি করেছেন নিজের দল। শুক্রবার ছত্তিসগড়ে ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা অজিত যোগী দাবি করলেন, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন তিনিই। সামনের বছর লোকসভা ভোটে যেমন বিজেপির কোনও আশা নেই, তেমন আশা নেই কংগ্রেসেরও। দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন দলিত নেত্রী মায়াবতী।
তাঁর কথায়, আমি বহুজন সমাজ পার্টি ও বামেদের সঙ্গে জোট করেছি। ঠিক হয়েছে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হব আমিই। আগামী লোকসভা ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি বরাবরই মনে করি, কেন্দ্রে অবিজেপি, অকংগ্রেসি সরকার গঠিত হওয়া উচিত। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন আমরা এখনও স্থির করিনি। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, মায়াবতীরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে।
৭২ বছর বয়সী যোগী একসময় আইপিএস অফিসার ছিলেন। ১৯৮৬ সালে রাজ্যসভার সদস্য হন। তিন দশক ধরে ছিলেন কংগ্রেস সদস্য। দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন একসময়। ২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল ছত্তিসগড় জনতা কংগ্রেস গঠন করেন।
এবার ছত্তিসগড়ের ভোটে যোগীর দলকে ভয় পাচ্ছে কংগ্রেস। রাজ্যে এখন বিজেপি বিরোধী হাওয়া প্রবল। কংগ্রেসের ধারণা, প্রতিকূল হাওয়ায় বেশ কিছু আসন হারাবে বিজেপি । কিন্তু যোগীর দল অনেক কেন্দ্রে কংগ্রেসের ক্ষতি করতে পারে । বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে সুবিধা করে দিতে পারে বিজেপির ।
যোগীর দাবি, ছত্তিসগড়ে বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়বেন তাঁরাই । রাজ্যের কয়েকটি অঞ্চলে তাঁর দলের ভালো প্রভাব আছে। তাঁর ছেলে অমিত যোগীও যথেষ্ট জনপ্রিয়। সুতরাং তাঁদের হালকাভাবে নিচ্ছে না কংগ্রেস।
ছত্তিসগড় বিধানসভায় মোট আসন ৯০টি । ভোট হবে দুই দফায়। ১২ ও ২০ নভেম্বর । মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে হিংসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না কেউ । মায়াবতী এবং যোগীর জোটের দিকে নজর আছে পর্যবেক্ষকদের । যোগীর দাবি, রাজ্যের মানুষ কোনও জাতীয় দলের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না । এই পরিস্থিতিতে ভালো ফল করবে আঞ্চলিক দলগুলিই । কংগ্রেস অবশ্য ইতিমধ্যে আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে বিজেপি বিরোধী মহাজোট গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে । কিন্তু যোগী বা মায়াবতীকে তারা যে জোটে পাচ্ছে না, তা এখন পরিষ্কার ।