ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের কোমা গ্রামপঞ্চায়েতের গাংটে গ্রামে। সেদিন এসআইআর (West Bengal SIR) সংক্রান্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়।

শতাব্দীর সামনেই তৃণমূলের ঝামেলা
শেষ আপডেট: 20 November 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর (SIR) পর্ব। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) একাধিক জেলায় ক্যাম্প চালু করেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিউড়ির (Suri) এক ক্যাম্পে সৃষ্টি হল চরম উত্তেজনা। অভিযোগ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা মুহূর্তে হাতাহাতিতে গড়ায়। এমনকি নিক্ষেপ করা হয় জুতো যা গিয়ে লাগে সাংসদ শতাব্দী রায়ের (Satabdi Roy) গাড়িতে।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের কোমা গ্রামপঞ্চায়েতের গাংটে গ্রামে। সেদিন এসআইআর (West Bengal SIR) সংক্রান্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীর একাংশ। সেই মতবিরোধ থেকেই হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাংসদ শতাব্দী রায় অভিযুক্ত বলরাম বাগদিকে নিজের গাড়িতে তোলেন। কিন্তু তাতেই জনতার ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। লাঠি-লাঠি, বাঁশ নিয়ে ছুটে আসে একটি দল। শুরু হয় বিশৃঙ্খলা, ছোড়া হয় জুতোও। মুহূর্তে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
তবে শতাব্দী রায় ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্যভাবে। তাঁর দাবি, “এই অশান্তি তৃণমূলের নয়, বিরোধীদের— বিজেপি আর সিপিএম–এর লোকজন এসে বিক্ষোভ করছে। ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।”
স্থানীয়রা কিন্তু মনে করিয়ে দিচ্ছেন পুরনো সমস্যার কথা। সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বহুদিনের। ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ–ঘনিষ্ঠ। অপরদিকে অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদির রাজনৈতিক আশ্রয় ছিল অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কাছে। ওই দুই শিবিরের সংঘর্ষ নতুন নয়— বিগত কয়েক বছরে এমন উত্তেজনা বহুবার দেখেছে এলাকা।
বস্তুত, গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে ‘আতঙ্কে’ অনেকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কোথাও আবার ‘আতঙ্কে’ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এসআইআর নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, সরকারি নির্দেশে কেউ নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিজেপিই। শুধু সাধারণ মানুষ নন, এখনও পর্যন্ত দুই বিএলও-রও মৃত্যু হয়েছে।