
শেষ আপডেট: 11 April 2023 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুটান সীমান্তে চিনা (China) সেনার আগ্রাসন নিয়ে বহুদিন থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। : ২০১৭ সালে ডোকলাম (Doklam) সংঘাতের পর থেকেই ত্রিদেশীয় সীমান্তে সামরিক কাঠামো তৈরি শুরু করে চিন। গত তিন বছরে ডোকলাম ও ভুটান সীমান্তে এয়ার বেস, হেলিপোর্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। সেনা মোতায়েনের জন্য রাস্তাও তৈরি করেছে। এবার আরও এক চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এল।
'ইন্ডিয়া টুডে'-র একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ভারত-ভুটান সীমান্তে ডোকলাম মালভূমি আমু চু বা তোর্সা নদীর উপত্যকায় সেনা ছাউনি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চিন। প্রায় ১০০০ জন সেনা থাকতে পারে এমন ছাউনি তৈরি হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েনের ব্যবস্থাও হচ্ছে। সীমান্তের নিকটবর্তী ওই এলাকাটি ভূরাজনৈতিক ভাবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। চিন, ভুটান এবং ভারত এই তিন দেশের সীমান্তে রয়েছে ডোকলাম মালভূমি। ২০১৭ সালে চিন-ভুটান সীমান্তে যেখানে টানা ৭৩ দিন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল ভারত ও চিনের সেনা, ছাউনি তৈরি হচ্ছে সেখানেই। আর ওই এলাকা আবার শিলিগুড়ি করিডর থেকে কাছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই এলাকায় সেনা ছাউনি তৈরি হলে সরাসরি শিলিগুড়ি করিডরে নজর রাখতে পারবে চিনের লাল ফৌজ।
আমাদের এক চিলতে জমিও দেব না, অরুণাচলের মাটিতে দাঁড়িয়ে চিনকে হুঁশিয়ারি শাহের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিন যেভাবে সেনা বাঙ্কার তৈরি করেছে, তাতে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলে তারা আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে চায়। এর ফলে আগামী দিনে ডোকলামে যদি আরও একবার বিরোধ শুরু হয়, চিনারা অনেক বেশি শক্তি নিয়ে লড়তে পারবে। কিছুদিন আগেই জানা গিয়েছিল, ভুটানের সীমান্তের মধ্যে একটি গ্রাম বানিয়ে ফেলেছে চিনারা। তার পরেই এই পরিকাঠামো তৈরির ছবি সামনে এল।
২০২০ সাল থেকে ভুটান সীমান্তে একাধিক ছোট ছোট গ্রাম তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যাক্সারের উপগ্রহ চিত্র দেখিয়েছিল, এই আমু চু এলাকাতেই জনপদ তৈরি করছে চিন।
ভারতের সেনা সূত্র জানাচ্ছে, গালওয়ানে সংঘাতের আগে থেকেই ডোকলাম নজরে ছিল চিনের বাহিনীর। চিন-ভুটান সীমান্তের মধ্য ও পশ্চিম সেক্টরে বহুদিন ধরেই তৎপর লাল ফৌজ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুটানকে চাপে রাখতেই চিনের এই কৌশল। পূর্ব লাদাখের একটা বড় অংশ চিন যেমন নিজেদের বলে দাবি করে, তেমনি চিন-ভুটান সীমান্তের পশ্চিম সেক্টরে ৩১৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ও মধ্য সেক্টরের ৪৯৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় চিন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া। ওই এলাকায় নিয়মিত টহলদারির পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের জন্য পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে বলে খবর।
ভারত, চিন ও ভুটান সীমান্তে ডোকলাম মালভূমিকে নিজের দেশের অংশ বলে মনে করে ভুটান। ভারত এই দাবি মেনে নিলেও, চিন দাবি করে ডোকলাম মালভূমি তাদের দেশের অংশ। ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তের কাছে রাস্তা তৈরি শুরু করে চিন। পূর্ব সিকিমের কাছে ডোকলাম থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে সেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাতে তীব্র আপত্তি জানায় ভারত। সিকিম পেরিয়ে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর কাছে ডোকলামে পৌঁছে যায় ভারতীয় সেনা। মুখোমুখি হয় চিনের বাহিনীও। প্রায় আড়াই মাস ধরে দুই দেশের বাহিনী এইভাবে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। কূটনৈতিক পথেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল শেষ পর্যন্ত। দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্বই ডোকলাম থেকে সেনা সরাতে রাজি হয়। কিন্তু ডোকলাম সীমান্তের ও পারে তথা ত্রিদেশীয় সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় চিনের বাহিনীর তৎপরতার খবর মাঝে মাঝেই আসে। নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরির খবর সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ল ভারতীয় সেনাবাহিনীর।