শিকাগোয় দোকানে লুটপাট জনতার, পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই, ধৃত ১০০-র বেশি
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার গভীর রাতে শিকাগোর অভিজাত অফিস পাড়ায় জড়ো হয় কয়েকশ মানুষ। তারা দোকানে দোকানে হানা দেয়। লুটপাট, ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারা মারপিট শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলির লড়াই হয়। দোকানের কর্মচারী ও পথচারীরা ভয়ে
শেষ আপডেট: 11 August 2020 03:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার গভীর রাতে শিকাগোর অভিজাত অফিস পাড়ায় জড়ো হয় কয়েকশ মানুষ। তারা দোকানে দোকানে হানা দেয়। লুটপাট, ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারা মারপিট শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলির লড়াই হয়। দোকানের কর্মচারী ও পথচারীরা ভয়ে দৌড়তে থাকেন।
শিকাগোর পুলিশ সুপার ডেভিড ব্রাউন বলেন, সম্পূর্ণ অপরাধী মানসিকতা থেকে জনতা শহরের একটি অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড মারা যাওয়ার পরে নীতিগত কারণে যে অভ্যুত্থান দেখা গিয়েছিল, তার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাউন বলেন, "শিকাগোয় কেউ সংগঠিত প্রতিবাদ জানায়নি। এটা সম্পূর্ণ অপরাধীদের কাজ।" পুলিশকর্তা জানান, কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। এক সিকিউরিটি গার্ড ও এক স্থানীয় বাসিন্দার দেহে গুলি লেগেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা নানা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সশস্ত্র জনতা দোকানে ঢুকে পড়েছে। মিশিগান অ্যাভিনিউ নামে এক অভিজাত এলাকায় সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে জনতা।

ব্রাউন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ২০ বছরের এক সন্দেহভাজন যুবককে পাকড়াও করে। পুলিশের হেপাজত থেকে সে পালাতে চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ পালটা গুলি চালালে সে আহত হয়। আপাতত সে হাসপাতালে আছে। খুব সম্ভবত সে সেরে উঠবে।
গুলিতে যুবকটি আহত হওয়ার পরে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে। নানা গুজব ছড়াতে থাকে। গোলমালের আশঙ্কা করে সেখানে ৪০০ পুলিশকর্মীকে পাঠানো হয়। তাঁরা গিয়ে দেখেন, একের পর এক গাড়িতে চড়ে আসছে বহু মানুষ। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলে একটি গাড়ি থেকে তাদের উদ্দেশে গুলি চালানো হয়।
ব্রাউন জানান, সেন্ট্রাল শিকাগোয় ওই অশান্তির পরে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
কয়েক মাস আগে মিনিয়াপোলিস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অফিসার ডেরেক শভিনের হাঁটুর চাপে গলার হার ভেঙে ও শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের। এই ঘটনার ভিডিও করেন কিছু পথচারী। সেই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রথমে মিনেসোটায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ দোকান ভাঙচুর হয়। থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা নামাতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে বিক্ষোভ নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াশিংটন ডিসিতেও।