শেষ আপডেট: 12 April 2020 12:16
ড্রোনের ছবিতে দেখা গেছে, মুখ থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত ঢাকা ‘হ্যাজমাট’ স্যুট পরা কর্মীরা কাজ করছেন সেখানে। বিরাট এক গণকবরে তাঁরা মই দিয়ে নামছেন, একটার পর একটা কফিন সেখানে রাখছেন। নিউইয়র্ক শহরের উপকণ্ঠে হার্ট আইল্যান্ড এলাকায় এই কবরটিতে এতদিন তাঁদেরই জায়গা হত, যাঁদের মৃত্যুর পরে কোনও আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ পাওয়া যেত না। অথবা যেসব মানুষের শেষকৃত্যের খরচ বহন করার সাধ্য নেই কারও, তাদেরই এখানে কবর দেওয়া হতো।
কিন্তু এখন করোনা-মৃত্যুর জেরে শহরে আর লাশ রাখার জায়গা নেই! সারা আমেরিকার এই একটি শহরেই আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা আমেরিকার অন্য যে কোন দেশের চেয়ে বেশি। ফলে করোনাভাইরাসের এই মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এই জায়গায় কবর খোঁড়ার কাজও আরও বেড়ে গেছে। আগে যেখানে কবর খোঁড়া হতো সপ্তাহে একদিন, এখন সপ্তাহে সাত দিনই খনন কাজ চলছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, সাধারণত জেলবন্দিদের দিয়ে করানো হয় এই কবর খোঁড়ার কাজ। কিন্তু এখন যেহেতু অনেক বেশি কবর খুঁড়তে হচ্ছে, তাই এই কাজ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারদের। সংকট কেটে না যাওয়া পর্যন্ত হয়তো অনেককেই এই অস্থায়ী কবরে সমাহিত করতে হতে পারে।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নোভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ক্রমে চিন থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলিতে। চিনে তিন হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পরে মৃত্যুমিছিল থামলেও, খারাপ থেকে খারাপতর অবস্থা হয় বাকি সমস্ত দেশের।