দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার ত্রিপুরার উনাকোটি অঞ্চলে খ্রিস্টান থেকে হিন্দু হলেন ৯৬ জন। তাঁরা ওরাও ও মুণ্ডা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে তাঁরা ত্রিপুরায় এসেছিলেন কাজের খোঁজে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে এক দক্ষিণপন্থী সংগঠন এই ধর্মান্তকরণের কথা জানায়। পরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানায়, কাউকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়নি।
উনাকোটি জায়গাটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে ওই গণ ধর্মান্তকরণের কাজে যুক্ত ছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরিষদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাদের ধর্মান্তর করা হয়েছে, তারা আসলে হিন্দু। অতীতে জোর করে তাঁদের খ্রিস্টান করা হয়েছিল। তাদের সম্মতি নিয়েই ধর্মান্তর করা হয়েছে।
এই ধর্মান্তরকে ভিএইচপি বলেছে ‘ঘরওয়াপসি’। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের অভিযোগ, ওই ৯৬ জনের অজ্ঞতা ও দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে তাদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়েছিল। সপ্তাহখানেক আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে ‘ফেস্টিভ্যাল অব পিস’ নামে এক উৎসবে গণ ধর্মান্তরকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, আমরা জিতি বা হারি, কখনও মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করব না।
‘ফেস্টিভ্যাল অব পিস’ উৎসবের উদ্যোক্তা ছিল এক খ্রিস্টান সংগঠন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, আমি জীবনে কখনও জাতপাত, আদর্শ বা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করি না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একই ভাবনায় বিশ্বাসী।
খ্রিস্টানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না। কেউ কোনও ধর্মে দীক্ষিত হতে চাইলে, হতেই পারে। তাতে কারও আপত্তি থাকতে পারে না। কিন্তু যদি গণ ধর্মান্তকরণ হয়, দেশের নানা প্রান্তে একই সঙ্গে বড় সংখ্যক মানুষ ভিন্ন ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে, তাহলে উদ্বেগের বিষয় তো বটেই।
গত বছর ত্রিপুরায় ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারপরে রাজ্যে শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে হিন্দুত্ববাদীদের। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে যে সংগঠনটি উনাকোটিতে ধর্মান্তরকরণ করেছে, তার জন্ম ১৯৮২ সালে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিনয় কাটিয়ার ওই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তারা অতীতে দেশের নানা অঞ্চলে ধর্মান্তরকরণ করেছে। প্রথমবার গুজরাতের ডাং অঞ্চলে সক্রিয়তার জন্য তারা নজরে আসে।
১৯৯৮-‘৯৯ সালে জানা যায়, ডাং জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের ওপরে হামলা হচ্ছে। তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তখনই অভিযোগ ওঠে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুগামী একটি সংগঠন ওই হামলার জন্য দায়ী।