
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 4 July 2024 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে গণকনভেনশন হতে পারে। সূত্রের খবর, আগামী ২১ জুলাইয়ের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি নিতে পারে 'দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ'। এই প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহমত প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্র মারফৎ জানা গেছে। তাঁর মন্তব্য গণপিটুনি আইন দীর্ঘদিন ধরে উনি (রাজ্যপাল) আটকে রেখেছেন। বিধায়কদের শপথ নিতেও দিচ্ছেন না। তাই এই কর্মসূচি করা যেতেই পারে।
বৃহস্পতিবার 'দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ'-র সঙ্গে আলোচনাচক্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গণকনভেনশন প্রসঙ্গে বলেন, এই কর্মসূচি তাঁরা করতেই পারেন। তিনি (রাজ্যপাল) গণপিটুনি আইন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছেন। বিধায়কদের শপথ নিতেও দিচ্ছেন না। তবে আদতে এই কর্মসূচি কবে হবে এবং কীভাবে করা হবে সে ব্যাপারে কিছুই স্পষ্ট জানা যায়নি।
বিগত কয়েক দিন ধরে রাজ্যে একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। তা নিয়ে রাজ্যের সরকারকে নিশানা করেছেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই এই হিংসার ঘটনা বেড়েছে রাজ্যে। মহিলারাও সুরক্ষিত নন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলারও অবনতি হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০১৯ সালেই রাজ্য বিধানসভায় গণপিটুনি রোধে বিল পাশ হয়েছিল। পরে তা রাজ্যপালের সম্মতি পাওয়ার জন্য রাজভবনে যায়। কিন্তু সেই বিলে সই করেননি তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মাঝে রাজ্যপাল হয়ে বাংলায় এসেছিলেন লা গনেশন। তিনিও ওই বিলে সই করেননি। বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও সম্মতি জানাননি। কার্যত রাজভবনের কারণেই সরকার গণপিটুনি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে দাবি করেন মমতা।
গণপিটুনির ইস্যু ছাড়াও অন্য একটি বিষয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তা হল নবনির্বাচিত দুই বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রেয়াত হোসের সরকারের শপথগ্রহণ। রাজভবনের বক্তব্য, তাঁদের রাজ্যপালের কাছেই শপথ নিতে হবে। অন্যদিকে, সায়ন্তিকারা নিজেরা জানান তাঁরা বিধানসভায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই শপথ নিতে চান। এই নিয়ে জটিলতায় শপথগ্রহণ হচ্ছে না।
এসবের মাঝে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিধায়কদের শপথগ্রহণ ইস্যু নিয়েই মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে আক্রমণ করেছেন। রাজভবনে মেয়েরা যেতে ভয় পাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এই মন্তব্যের পরই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন রাজ্যপাল। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য করে তিনি তাঁর সম্মানহানি করেছেন।