দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ ই মহম্মদের শীর্ষ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার অসুস্থ। কিন্তু তাঁর ঠিক কী হয়েছে বলেননি। শনিবার একটি সূত্রে খবর পাওয়া গেল, মাসুদের রেনাল ফেলিওর হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে।
নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর এক শীর্ষস্তরের অফিসার জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা খবর পাচ্ছিলাম মাসুদ অসুস্থ। সম্ভবত তাঁর মূত্রনালিতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দফতরে যে হাসপাতাল রয়েছে, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে। অর্থাৎ মাসুদ যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আশ্রয়ে আছেন, এই খবরে তা আরও একবার বোঝা গেল।
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী কুরেশি শনিবার বলেছিলেন, আমি যতদূর জানি, মাসুদ পাকিস্তানে। তিনি অসুস্থ। বাড়ি থেকে বেরতে পারছেন না। বড় কোনও অসুখ হয়েছে তাঁর।
জইশ প্রধান একসময় আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা যায়। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে আই সি ৮১৪ নামে এক ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে হরকত উল আনসার নামে এক সংগঠনের জঙ্গিরা। আটক যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তিন জঙ্গিকে ছেড়ে দেয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মাসুদ। তাঁর মুক্তিতে লাদেন এতই খুশি হয়েছিলেন যে, তিনি ব্যাঙ্কোয়েট পার্টি দেন সেই রাতেই। সেখানে লাদেন আমন্ত্রিতদের বলেছিলেন, ১৯৯৩ সালে মাসুদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল।
জম্মু-কাশ্মীরে জেহাদি মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে ১৯৯৪ সালে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে মুক্ত করার জন্য সেবছরই ওমর শেখ নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক কয়েকজন বিদেশী পর্যটককে অপহরণ করে। যদিও নিরাপত্তা রক্ষীরা পর্যটকদের উদ্ধার করেন। ওমরকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৫ সালে ফের পাঁচ বিদেশী পর্যটককে অপহরণ করে মাসুদের মুক্তি দাবি করা হয়। তাতে সফল না হয়ে জঙ্গিরা খুন করে পাঁচজনকে।
ধরা পড়ার আগে মাসুদ ব্রিটেনে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করতেন। অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামও দিতেন। ১৯৯৩ সালে আজহার বাংলাদেশে যান। তাঁর সঙ্গে ছিল সাজ্জাদ আফগানি নামে আরও এক জঙ্গি। ১৯৯৯ সালে ছাড়া পাওয়ার পরে আজহার জইশ ই মহম্মদ নামে সংগঠনটি তৈরি করেন। ২০০০ সালে জইশের জঙ্গি আসিফ সাদিক শ্রীনগরের বাদামি বাগ ক্যান্টনমেন্টে আত্মঘাতী হামলা চালায়। ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর জইশের জঙ্গিরা ভারতের পার্লামেন্টে হামলা করে। ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি জইশ পাঠানকোটে বায়ুসেনার ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়।