
শেষ আপডেট: 18 August 2023 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় রয়েছে অভাব না থাকলে জেদ আসে না। লড়াই বহু ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগায় চ্যাম্পিয়নদের। ইতিহাস তাই বলে। সোনার পালঙ্কে শুয়ে সাফল্যের স্বপ্ন দেখা কঠিন (Masons daughter becomes taikawando national champion)।
মন্দিরার বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। দিনের পর দিন ভিন রাজ্যে পড়ে থাকতে হয়। বাড়িতে থাকা মেয়েটির জন্য চিন্তা হয়। সেই কারণেই মেয়েকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন বাড়ির কাছে এক তাইকোণ্ড কোচিং সেন্টারে।
সেই শুরু, তারপর জেলা ও রাজ্য স্তরে একের পর এক সাফল্য পেয়ে মন্দিরা দিল্লি, লখনউতে জাতীয় আসরেও সোনা জিতে ফিরেছে।
মন্দিরা এবছর তিন্নাইলামপুর স্মৃতি বিদ্যামন্দির থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। খেলার পাশে পড়াশুনাও চালিয়ে যেতে চায় এই মেধাবী মেয়েটি।
২০১৭ সালে স্থানীয় এক তাইকোন্ড শিক্ষক সুকান্ত মিস্ত্রির কাছে মেয়েকে ভর্তি করেন মানিক। প্রথম পান্ডুয়া তেলিনিপাড়ায় একটি প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়ে তৃতীয় হয়,সেই শুরু।
এরপর একে একে রাজ্য জাতীয় স্তরে সোনা জয়। সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপে নির্বাচিত হয়েছে মন্দিরা। ভবিষ্যতে বাবার স্বপ্ন সত্যি করা তার ইচ্ছা।
পাশাপাশি এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে দেশের হয়ে পদক আনতে চায় মন্দিরা। কন্যাশ্রী দিবসে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকেও মানপত্রসহ পুরস্কার পেয়েছে মন্দিরা।
আর তাতে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার। মেয়ের সাফল্যে খুশি মা মিলন মন্ডল। তিনি বলেছেন, ওর বাবার ইচ্ছে ছিল খেলায় নাম করা। সেটি অভাবের কারণে হয়নি। তাই শত কষ্টের মধ্যেও মেয়েকে এগিয়ে নিতে চাই আমরা। আমার মেয়ে সফল হবেই। ও নিজেও চায় বাধার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে।
আরও পড়ুন: জগমোহন ডালমিয়ার নামে স্পোর্টস ডর্মিটরির সূচনা চুঁচুড়ায়, ছিলেন অভিষেক ও স্নেহাশিস