দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার হরিয়ানা (Hariyana) এন্টারপ্রাইসেস প্রমোশন সেন্টারের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। বৈঠকের পরে তিনি জানান, সোনিপত জেলার খারখোদায় ৯০০ একর জমির ওপরে মারুতি সুজুকি সংস্থাকে কারখানা বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক গাড়ি তৈরি করবে মারুতি সুজুকি। ফলে হরিয়ানায় গাড়ির বাজার চাঙ্গা হবে।
গত অক্টোবর মাসে জানা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকে মারুতি-সুজুকির মোট লাভ হয়েছে ১৩৭১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। গত বছরের একই ত্রৈমাসিকের তুলনায় এবার তাদের মুনাফা বেড়েছে এক শতাংশ বেশি। ভারতের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা সংস্থা মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের মোট লাভ হয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। গত আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে লাভ হয়েছিল ১৬ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।
নয়াদিল্লিতে কোম্পানির সদর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বিক্রি হয়েছে ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৩০ টি গাড়ি। গতবছর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ১৬.২ শতাংশ। দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি হয়েছে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ৬১৯ টি গাড়ি। কিন্তু বিদেশে মারুতি-সুজুকির গাড়ি বিক্রি কমেছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে রফতানি হয়েছে ২২ হাজার ৫১১ টি গাড়ি।
এর আগে মারুতি সুজুকি জানিয়েছিল, গত অগাস্ট মাসে গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭০৪ টি। ২০১৯ সালের অগাস্টে ওই সংস্থার গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৯৪ হাজার ৭২৮ টি।
অগাস্টে মিনি এবং কমপ্যাক্ট সাব সেগমেন্টের গাড়িই বেশি বিক্রি করেছে মারুতি-সুজুকি। ইউটিলিটি ভেহিকলও ভাল বিক্রি হয়েছে। ইউটিলিটি ভেহিকলের মধ্যে আছে ২০২০ ভিতারা ব্রেজ্জা, নতুন লঞ্চ করা গাড়ি ২০২০ এস-ক্রস, এরতিগা এবং এক্সএলসিক্স। অগাস্টে ইউটিলিটি গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ।
শনিবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী জানান, পানিপথে একটি কারখানা তৈরি করতে চলেছে গ্রাসিম পেন্টস। এর আগে স্থির হয়েছিল তারা রোহতকে কারখানা তৈরি করবে। কিন্তু পরে নানা কারণে পানিপথে কারখানা বানানোর সিদ্ধান্ত হয়। খট্টর জানিয়েছেন, গ্রাসিমের কারখানা তৈরি হবে ৭০ একর জমির ওপরে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে রোহতকে রেলের যন্ত্রাংশ বানানোর একটি কারখানা তৈরি হবে।
শনিবার গুরুগ্রামে হরিয়ানা স্টেট কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সবিলিটি ট্রাস্টের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খট্টর। তিনি বলেন, প্রত্যেক কোম্পানিকে তার লাভের দুই শতাংশ সামাজিক কাজে ব্যয় করতে হবে। বিভিন্ন কোম্পানির কর্তাদের উদ্দেশে খট্টর বলেন, "আপনারা এই অর্থ স্বাস্থ্য, সৌন্দর্যায়ন, শিক্ষা ইত্যাদি খাতে ব্যয় করতে পারেন। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে টাকা খরচ করলেই আপনারা ভাল করবেন। কারণ সরকার জানে, কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করা জরুরি।"