দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্ত পরিকল্পনা সেরে রেখেছিলেন পরিবারের লোকজন। ৪০তম জন্মদিনে তিনি বাড়ি ফিরবেন। উৎসব হবে সবাইকে নিয়ে। কিন্তু তা আর হল না। লাদাখ সীমান্তে চিনা সেনাদের আক্রমণে শহিদ হলেন সেনা জওয়ান কে পাঝানি।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা ছিলেন পাঝানি। গত ৩ জুন ছিল তাঁর ৪০তম জন্মদিন। মে মাসের গোড়ার দিকেই পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জন্মদিনের আগেই কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। পরিবারের লোকজনও তাই পরিকল্পনা সেরে রেখেছিল। নির্মীয়মাণ নতুন বাড়িতেই ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে অনুষ্ঠানের ভাবনা ছিল। জন্মদিনের সঙ্গে সেরে ফেলার ইচ্ছে ছিল গৃহপ্রবেশও।
কিন্তু ৩ জুনের কয়েকদিন আগেই এই সেনা জওয়ান বাড়িতে জানান, তিনি যাচ্ছেন না। জরুরি কারণে বাতিল হয়েছে ছুটি। বলেছিলেন, এই সমস্যা মিটলেই বাড়ি ফিরবেন। শেষ বাড়ি গিয়েছিলেন এ বছরের জানুয়ারি মাসে। বাড়ির লোকও মেনে নিয়েছিল সবটা। সেনাবাহিনীর চাকরি। যখন তখন ছুটি বাতিল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে পাঝানি জানিয়েছিলেন, জন্মদিন পেরিয়ে যাবে তো কী! অনুষ্ঠান হবে।
শহিদ সেনা জওয়ানের স্ত্রী বনতীদেবী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "ওই সময়ে সময়ে আমাদের ফোনে বলে, ওখানে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই আসতে পারবে না।" পাঝানির একটি ১০ বছরের ছেলে ও আট বছরের মেয়ে রয়েছে। তাঁর ভাইও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
বৃদ্ধ বাবা-মাও সন্তান শোকে পাথর। শহিদ সেনা জওয়ানের বাবা কালিমুথু বলেন, "পথ চেয়ে বসেছিলাম ছেলেটার জন্য। কতদিন বাড়ি আসেনি। আর কোনওদিন আসবে না এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারছি না।
১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন পানাঝি। স্কুল জীবন থেকেই শরীর চর্চায় আগ্রহ ছিল তাঁর। খেলাধূলা থেকে ব্যায়াম-- সবেতেই অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকত ছেলেবেলা থেকেই।
এখনও পর্যন্ত যা খবর, সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় চিন-ভারত সেনা সংঘর্ষে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর ২০ জন নিহত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম চিনা সেনাদের হামলায় ভারতীয় জওয়ানদের প্রাণ গেল। তাও আবার একসঙ্গে এত জনের।