
শ্মশানে মায়ের দেহের সামনে বিয়ে
শেষ আপডেট: 21 June 2024 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো,পূর্ব বর্ধমান: শ্মশানে শোওয়ানো মায়ের দেহ। সেখানেই বিয়ে সারলেন মেয়ে। মালা পরালেন প্রেমিকের গলায়। প্রেমিকও সিঁদুর পরিয়ে দিলেন। বুধবার রাতে গুসকরা শহরে রটন্তীকালী মন্দিরের পাশে শ্মশানে এক অভিনব বিয়ের সাক্ষী থাকলেন গুসকরার কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদেরই কয়েকজন মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে রাখেন এই দৃশ্য। পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গুসকরা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা ছিলেন নীলিমা মুখোপাধ্যায়। বুধবার বাড়ি থেকেই মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। নীলিমাদেবীর স্বামী ভবানী মুখোপাধ্যায় পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর ওষুধের দোকান রয়েছে। তাদের একমাত্র সন্তান পল্লবী স্নাতক হওয়ার পর কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বেশকিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বুধবার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আত্মঘাতী হন তিনি।
ময়নাতদন্ত করে বুধবার তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় গুসকরা শহরে রটন্তীকালী শ্মশানে। দাহ করার আগে মেয়ে পল্লবী তাঁর প্রেমিক জয়দীপের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন। জয়দীপও সিঁদুর পড়িয়ে দেন তাঁর প্রেমিকার সিঁথিতে। কয়েক বছর ধরেই ভাতারের বেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়দীপের সঙ্গে পল্লবীর সম্পর্ক ছিল। তাঁরা বিয়ে করবেন বলেও ঠিক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিও ছিল। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য নিলীমাদেবী ব্যস্ত হয়ে পড়লেও পল্লবী চাইছিলেন বিয়েটা আর কয়েকদিন পরে করতে। কিন্তু মায়ের এমন সিদ্ধান্তের জন্য তৈরি ছিলেন না। তাই মায়ের দেহ সামনে রেখেই এদিন শ্মশানে বিয়ে সারলেন পল্লবী।
ভাতারের বেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় কৃষক মলয় অধিকারীর একমাত্র সন্তান জয়দীপ। মলয়বাবু বলেন," এমনিতেই ছেলের বিয়ের জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। এমন ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কিছুদিন পর ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠান করব।"