দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাওবাদীদের থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না এক বিজেপি নেতা। শেষকালে মাওবাদীদের হাতেই প্রাণ গেল তাঁর। বিহারের আওরঙ্গাবাদ জেলার ঘটনা।
গত শনিবার রাতে ২০০ মাওবাদী বিজেপির বিধান পরিষদীয় দলের সদস্য রাজন কুমার সিং-এর বাড়িতে হানা দেয়। তাঁর ৫৫ বছর বয়সী কাকা নরেন্দ্র সিংকে গুলি করে মারে। ১০ টি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। অভিযোগ, দু’বছর আগে নোটবন্দির সময় নরেন্দ্র মাওবাদীদের থেকে ৭ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। সেগুলি সবই ছিল ৫০০ ও হাজার টাকার নোট। সেগুলি বদলে দেওয়ার জন্য তাঁকে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনি নাকি মাওবাদীদের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না।
রাত সাড়ে ন’টার সময় মাওবাদীরা রাজনের বাড়িতে ধাক্কা দেয়। নরেন্দ্র দরজা খোলেন। সঙ্গে সঙ্গে মাওবাদীরা তাঁকে গুলি করে। তারপর কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করে। পরে রাজনের বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটাতে চেষ্টা করে। নিকটবর্তী একটি কমিউনিটি হলেও বিস্ফোরণ ঘটায়। রাজনের বাড়িতে অবশ্য বিস্ফোরণ হয়নি। বম্ব স্কোয়াডের লোকজন বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
পুলিশ অফিসার সত্য প্রকাশ জানিয়েছেন, মাওবাদীরা বিজেপি নেতার বাড়িতে আক্রমণ করেছে শুনে বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পরে মাওবাদীরা পালায়।
পালানোর আগে তারা নিজেদের পোস্টার ও ইশতেহার ফেলে গিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কেন নরেন্দ্রকে খুন করা হল। রাজন কুমার অবশ্য মাওবাদীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু পুলিশ বলেছে, কয়েকজন রাজনীতিক মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন।
রাজনের দাবি, পুলিশ ও রাজ্য সরকার এই আক্রমণের জন্য দায়ী। তাঁর কথায়, প্রশাসনের গাফিলতির জন্যই মাওবাদীরা আক্রমণ করতে সাহস পেয়েছে। আমি নিজে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও ডিজিপি-কে অনুরোধ করেছিলাম, গ্রামে একটি থানা তৈরি করা হোক। অন্তত একটি ফাঁড়ি তৈরি হোক। কিন্তু কেউ আমার কথায় কান দেয়নি।
আওরঙ্গাবাদ বহুদিন ধরেই মাওবাদী উপদ্রুত জেলা বলে পরিচিত। যদিও চলতি বছরেই পুলিশ দাবি করেছিল, ওই জেলায় মাওবাদী তৎপরতা কমেছে। বিশেষত নয়ের দশকে ওই জেলায় কয়েকটি অঞ্চলে যেমন মাওবাদীরা কার্যত নিজেদের রাজ কায়েম করে ফেলেছিল এখন আর সেই অবস্থা নেই। কিন্তু গত শনিবারের আক্রমণ বুঝিয়ে দিল, তারা আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়লেও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।