দ্য ওয়াল ব্যুরো : ছত্তীসগড়ে সোমবার বিধানসভা ভোটের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছিল বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে। বেলা ১২ টা ২০ মিনিটে ফের হানা দিল মাওবাদীরা। বিজাপুরে তারা গুলি চালাল নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ করে। গুলিতে দুই কোবরা কম্যান্ডো আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। গুলির লড়াই চলছে এক ঘন্টার ওপর। চারদিক থেকে সেখানে আরও সিআরপিএফ পাঠানো হচ্ছে যাতে মাওবাদীদের পরাস্ত করা যায়।
সোমবার ছত্তীসগড়ে প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ হচ্ছে ১৮ টি আসনে। তার মধ্যে ১৩ টি আসন মাওবাদী অধ্যুষিত। মাওবাদীরা যাতে ভোটের সময় অশান্তি না করতে পারে, সেজন্য এক লক্ষ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে উপদ্রুত অঞ্চলগুলিতে। আকাশে উড়ছে ৫০ টি ড্রোন। সেখান থেকে নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির ওপরে। কিন্তু তাও শান্তিপূর্ণ ভোট করানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিন ভোট শুরু হওয়ার আগে দান্তেওয়াড়া জেলায় এক ভোট কেন্দ্রের অল্প দূরে বিস্ফোরণ ঘটে। সুকমায় এক বুথের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি আইইডি। নির্বাচন কমিশন জানায়, বেলা ১০ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৩ শতাংশ। মাওবাদী এলাকায় বুথে ভিড় নেই। জঙ্গি হানার আশঙ্কায় ওই সব বুথে ভোট হবে বেলা তিনটে পর্যন্ত।
প্রশাসন আশা করেছিল, সকালের পরে যদি আর কোনও গোলমাল না হয়, তা হলে আরও গ্রামবাসী ভোট দিতে আসবেন। ভোটদানের হার বাড়বে। কিন্তু পরে ফের মাওবাদী হানা ঘটল।
মাওবাদী হানায় এদিন এখনও পর্যন্ত কারও নিহত হওয়ার খবর নেই । পর্যবেক্ষকদের মতে, এদিন মাওবাদীরা চাইছে মূলত গণ্ডগোল করতে। কাউকে হত্যা করার বদলে অশান্তি সৃষ্টি করে ভোটদাতাদের ভয় দেখানোই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ।
ছত্তিসগড়ে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের আগে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণ ঘটেছে । হতাহতও হয়েছেন কয়েকজন। মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোট করানো প্রশাসনের কাছে ছিল চ্যালেঞ্জ । বস্তার, কাঁকে, দান্তেওয়াড়া, বিজাপুরের মতো যে সব অঞ্চলে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি, সেখানে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা । যেখানে তাদের ক্ষমতা আছে সেখানে ভোট বয়কটের ডাক কার্যকরী করতে তারা ব্যাপক হিংসা ছড়ানোর ছক কষেছে । গ্রামবাসীদেরও তারা সতর্ক করে দিয়েছে, ভোট দিলে পরিণাম ভালো হবে না । সিআরপিএফ ভোটের আগে গ্রামে গ্রামে টহল দিচ্ছে বটে, কিন্তু ভোটের পরে তারা সবসময় থাকবে না । এই হুমকির বিরুদ্ধে মানুষকে সাহস যোগাচ্ছে প্রশাসন ।