দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেসিকা লাল হত্যকাণ্ডে ছাড়া পেল মূল অভিযুক্ত মনু শর্মা। দেশের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ের একটি খুনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠ ওরফে মনু শর্মার। এর আগেও তিনি ছাড়া পেয়েছিলেন একবার। সোমবার আরও ১৮ জন বন্দির সঙ্গে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।
দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল এই মুক্তির সিদ্ধান্তে সই করেছেন। দিল্লি সরকারের সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডের তরফে মনু শর্মাকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল তাঁর কাছে। গত মাসে দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন একটি বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
মনু শর্মা প্রায় ১৭ বছর কারাবাস করেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে আরও বহু বন্দির মতো প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। জেলের ভিতরে ভিড় করে থাকা অনুচিত বলে সারা দেশেই বহু বন্দি মুক্তি পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিনোদ শর্মার ছেলে মনু শর্মা ২০০৬ সালে মডেল জেসিকা লালকে খুন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়। ১৯৯৯ সালে দিল্লির একটি পার্টিতে তাকে মদ সার্ভ করতে না চাওয়ার জন্য গুলি করে জেসিকা লালকে মেরে ফেলেছিল মনু শর্মা।
এর পরেই তিহাড় জেলে বন্দি ছিল সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠ ওরফে মনু শর্মা। এর আগেও তার মুক্তির জন্য আবেদন করা হলে গত বছর জানুয়ারি মাসে তা খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। যদিও নিহত জেসিকা লালের বোন স্যাব্রিনা লাল তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে জানান, মেয়াদ ফুরোনোর আগে মনু শর্মার মুক্তি নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তা সত্ত্বেও প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বিনোদ শর্মার ছেলে মনুর মুক্তির আবেদনে সাড়া দেয়নি আদালত। তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে স্বামীর মুক্তির চেষ্টায় নেমেছিলেন মনু শর্মার স্ত্রী।
শেষমেশ জেলে ভালভাবে থাকার সার্টিফিকেট পেল মনু শর্মা। সেই কারণে মিলল মুক্তিও।