
শেষ আপডেট: 17 December 2019 18:30
(বাঁ দিক থেকে) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, অ্যাডমিরাল করমবীর সিং এবং এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া[/caption]
লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে ও এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া ছিলেন এনডিএ-র এক স্কোয়াড্রনে। ‘লিমা’ স্কোয়াড্রনে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়। অ্যাডমিরাল করমবীর সিং ছিলেন ‘হান্টার’ স্কোয়াড্রনে। নারাভানে এবং করমবীর সিং-এর বন্ধুত্ব আবার আরও পুরনো। তাঁরা ছিলেন একই স্কুলের সহপাঠী। দেশের তিন বাহিনীর তিন প্রধানের পারস্পরিক পরিবারিক সম্পর্কও বেশ অটুট। সেনা সূত্রে জানা গেছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে ও অ্যাডমিরাল করমবীরের বাবারাও ছিলেন সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’জনের বাবাই বায়ুসেনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়ার বাবা ছিলেন ফ্লাইং অফিসার। পেশার ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ পারিবারিক সম্পর্কেও যোগসূত্র তৈরি করে। একই সঙ্গে সেনা প্রশিক্ষণ, একই সঙ্গে পড়াশোনা, সেনা পোশাকে টানটান শরীরে মাথা উঁচু করে দেশসেবার শপথ নিয়েছেন একই সঙ্গে। ১৯৮০ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে বেরিয়ে নিজের নিজের উইং বেছে নেওয়ার পরেও তিনজনের বন্ধুত্বে ছেদ পড়েনি।
[caption id="attachment_169505" align="aligncenter" width="1200"]
অ্যাডমিরাল করমবীর সিং[/caption]
১৯৮০ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দেন অ্যাডমিরাল করমবীর সিং। ১৯৮২ সালে নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে দায়িত্ব নেন। ২০১৭ সালে তিনি তিনি ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডার ইন চিফ হিসাবে দায়িত্বভার তুলে নিয়েছিলেন। প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান সুনীল লাম্বার অবসরের পরে ৩১ মে নৌসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন অ্যাডমিরাল করমবীর।
[caption id="attachment_169504" align="aligncenter" width="600"]
এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদুরিয়া[/caption]
১৯৮০ সালেই ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দিয়েছিলেন ভাদুরিয়া। এয়ার উইংয়ের নানা শাখায় কম্যান্ডারের দায়িত্ব সামলেছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম সেক্টরে জাগুয়ার স্কোয়াড্রনের ফ্রন্ট লাইন কম্যান্ডার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন, ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন। ন্যাশনাল ফ্লাইট টেস্ট সেন্টারের চিফ টেস্ট পাইলট ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর, সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের সিনিয়র এয়ার স্টাফ অফিসার ছিলেন। ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত এয়ার স্টাফের ডেপুটি চিফ ছিলেন। চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বায়ুসেনা প্রধানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতেই।
[caption id="attachment_169502" align="aligncenter" width="600"]
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে[/caption]
১৯৮০ সালের জুন মাসে শিখ লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সাত নম্বর ব্যাটেলিয়নে কর্মজীবন শুরু করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। ৩৭ বছরের কর্মজীবনে একাধিক কম্যান্ডের শীর্ষ পদে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে।
সাহস, দক্ষতা ও কর্তব্যে তিন বাহিনীর এই তিন প্রধানই নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন। ৩৯ বছর ধরে নৌবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন অ্যাডমিরাল করমবীর সিং। গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস রাণা ও আইএনএস দিল্লি পরিচালনা করা ছাড়াও ওয়েস্টার্ন ফ্লিটের ফ্লিট অপারেশন অফিসার হিসাবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ‘প্রজেক্ট সি-বার্ড’-এর ডিরেক্টর জেনারেলও ছিলেন তিনি। পরম বিশিষ্ট সেনা মেডেল ও অতি বিশিষ্ট সেনা মেডেল সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে।
২৬ রকমের যুদ্ধবিমান ওড়ানোর প্রশিক্ষণ রয়েছে এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়ার। প্রায় ৪২৫০ ঘণ্টা আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি একাধারে ক্যাটেগরি ‘এ’পর্যায়ের ফ্লাইং ইনস্ট্রাকটর, অন্যদিকে পাইলট অ্যাটাক ইনস্ট্রাকটর। ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে তাঁকে‘সোর্ড অব অনার’সম্মান দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, বায়ু সেনা মেডেল ও পরম বিশিষ্ট মেডেলও পেয়েছেন তিনি।
কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে জঙ্গিদমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের। কাশ্মীরে তিনি রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের অধিনায়ক ছিলেন। তাছাড়া অসম রাইফেলসের ইনস্পেকটর জেনারেলের (নর্থ) দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কায় অপারেশন পবনের সময় তিনি ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। মায়ানমারের ভারতীয় দূতাবাসে প্রতিরক্ষা আধিকারিক হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের সেবা ও কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানেকে সেনাপদক (২০১৫), বিশিষ্ট সেবা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (২০১৭) এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক (২০১৯) সম্মানে ভূষিত করা হয়।