দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনোজ তিওয়ারি বরাবরের ডাকাবুকো। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ চলছে। বাংলা টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করছে, তিনে নামলেন মনোজ, এমন দাপিয়ে খেললেন যে, বিপক্ষ দলের মহাতারকা শচীন তেন্ডুলকার দিনের শেষে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, মনোজ দারুণ প্রতিভাবান। ও যদি ঠিকঠাক সুযোগ পায়, তা হলে অনেকদিন দেশকে সেবা করবে।
মনোজ সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি পাননি, কিন্তু এমনভাবে ওই ম্যাচে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, মনে রেখেছিল ক্রিকেটমহল। তারপর অবিচারের শিকার হয়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন, ফিরেও এসেছেন, কিন্তু রাজনীতির খেলায় তিনি হার মেনেছেন।
এও বলা হয়, মনোজ যতবড় ক্রিকেটার, ততটা কদর পাননি। তাঁর আমলে সুরেশ রায়নারা বহাল তবিয়তে খেলেছেন, কিন্তু মনোজ ঠোঁটকাটা বলে নির্বাচকদের রক্তচক্ষুর সামনে বারবার পড়েছেন।
বাংলা দলের ক্ষেত্রেও তাই, অন্যায় হলেই প্রতিবাদ করেছেন। তিনি সোজাসাপটা বলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে ভালবাসেনও। এমনকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভরসা করেন খেলার মাঠের মনোজকে। সেই কারণেই তিনি গোয়ায় তৃণমূলের হাত ধরে খেলার বিকাশের ক্ষেত্রে মনোজকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মহুয়া মৈত্র গোয়ায় তৃণমূলের পুরো বিষয়টি দেখলেও মনোজ তাঁর ডেপুটি।
দু’দিন আগেই গোয়ায় বেশ কয়েকদিন থেকে তিনি কলকাতায় ফিরেছেন। শহরে ফিরে বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, ‘‘গোয়া পর্ব দারুণ গিয়েছে। বহু মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে, বহু মিটিং করেছি। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ভাল লেগেছে। আমাকে আবারও যেতে হবে।’’
মনোজ গোয়ায় বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে হাজির ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে, সর্বত্রই তিনি সম্মানিত হয়েছেন। ভলিবলের আসর থেকে শুরু করে দাবায় দুই কৃতি ভাই-বোনকে সহায়তা করেছেন তিনি। এও বলে এসেছেন, আগামী দিনে দেশ-বিদেশে খেলতে গেলে তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করবে তৃণমূল। তিনি সবসময় পাশে থাকবেন। ওই দুই ভাইবোন আবার খুশি হয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
মনোজ বলছিলেন, গোয়ায় বিজেপি-র হাল ভাল নয়, কারণ খেলা পরিকাঠামো শেষ করে দিয়েছে ওরা। বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষে বসে তারা স্বজনপোষণ রাজনীতি করে চলেছে, এই নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে বহু ক্ষোভ রয়েছে। তাঁরা অনেকেই আমাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছে।
গোয়ায় বিজেপি-র অবৈধ নির্মান নিয়ে প্রতিবাদে শামিল মনোজ।
খেলার মাঠ করেনি, এমনকি ফুটবল ছাড়া অন্য খেলার কোনও পরিকাঠামো নেই। ক্রিকেটের মাঠ নেই, ছোট খেলার কোনও ব্যবস্থা নেই, মনোজ সবটাই দেখে এসেছেন। একটি রূপরেখা করে তিনি এগোবেন বলে জানাবেন। এমনকি একটি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের দারুণ সাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার।
খেলার মাঠের বিদ্রোহী মেজাজ ধরে রেখে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে চান। বারবার বলছেন, ‘‘আমাদের দিদি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ ধরে আমি এগোতে চাই। তিনি আমাকে যা নির্দেশ দেবেন, সেটি পালন করতে পারলে ভাল লাগবে।’’
একটা সময় গোয়ায় খেলোয়াড় হিসেবে গিয়েছেন, সেই শহরেই গিয়েছেন অন্য ভূমিকায়। এই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘গোয়া সাধারণত রঞ্জির প্লেট গ্রুপে খেলত, বাংলা খেলত এলিট গ্রুপে। তাই বেশি আমাদের মধ্যে মুখোমুখি হয়নি। যতবার হয়েছি, বাংলাই জিতেছে। আমি একবারই গিয়েছি গোয়ায় ক্রিকেটার হিসেবে।’’
মনোজ সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ বিজেপি-র অবৈধ নির্মান নিয়ে গোয়ার বুকে। হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক বলছিলেন, ‘‘খেলার মাঠও বাকি নেই, সেটিও তারা নিয়ে নিতে চাইছে।’’ এই নিয়ে মনোজের বক্তব্য, ‘‘আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব, যেখানে খেলার মাঠের অভাব, সেখানে কী করে ওই অঞ্চলগুলিতে অবৈধ নির্মান হতে পারে। আমি পরেরবার গিয়ে এই বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেব।’’
গোয়ায় কংগ্রেসের ওপর ভরসা করেছিল মানুষ, কিন্তু তারা ১৭টি আসন পেয়েও বিজেপি-র কাছে বিকিয়ে গিয়েছে অর্থের বিনিময়ে। মনোজ সেই প্রচারই করেছেন বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে। তাই তৃণমূলকে একটা সুযোগ দিতে বলছেন এই নামী তারকা। তিনি রাজনীতির পিচেও সপাটে ব্যাটিং করতে চান।