
শেষ আপডেট: 8 September 2023 06:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন (G20 Summit) শুরু হবে নয়াদিল্লিতে। তার আগে এ ব্যাপারে মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং (Manmohan Singh on G20 Summit) । তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত যে উচ্চতা অর্জন করেছে তা নিয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতে অবশ্যই আলোচনা হওয়া উচিত। তবে ব্যক্তিগত বা দলগত রাজনীতির জন্য দেশের বিদেশনীতি ও কূটনীতিকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযম রাখাও জরুরি।
মনমোহনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এক দশক ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আপনি। সেই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে (G20 Summit) সামিল হয়েছিলেন। ঘরোয়া রাজনীতিতে দেশের বিদেশ নীতির প্রভাবের কী ধরনের পরিবর্তন আপনি লক্ষ্য করছেন।
এর জবাবেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি খুশি যে আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারছি যে ভারত জি২০-র প্রেসিডেন্সি পেয়েছে এবং শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানাতে চলেছে।” তাঁর কথায়, “দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর উপরে বিদেশ নীতির প্রভাব বরাবরই ছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে ঘরোয়া রাজনীতির জন্য আগের তুলনায় তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।”
বিশ্বের ২০টি শক্তিশালী অর্থনীতির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জি২০ গোষ্ঠী। আগে কেবল মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হত জি২০-তে। কিন্তু ২০০৮ সালের বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষিতে জি২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানরা বছরে একবার শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হন। অতীতে দেখা গিয়েছে, জি২০ রাষ্ট্রগোষ্ঠীতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিশ্বজনীন মন্দা কাটাতে যে দাওয়াইয়ের কথা বলেছেন, তার তারিফ করেছে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলিও। এ ব্যাপারে ২০১২ সালে মেক্সিকোতে আয়োজিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলন উল্লেখযোগ্য।
জি২০ দেশগুলির মধ্যে রোটেশনের ভিত্তিতে কোনও একটি দেশকে প্রেসিডেন্সির মর্যাদা দেওয়া হয়। অর্থাৎ সেই দেশ হয় আয়োজক দেশ। এবার যেমন আয়োজক দেশ হল ভারত। গত বছর ছিল ইন্দোনেশিয়া। আবার ২০২৪ সালে জি২০ প্রেসিডেন্সি পাবে ব্রাজিল। কিন্তু ঘরোয়া রাজনীতিতে এই সমালোচনা রয়েছে যে ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সিকে নিজের ব্যক্তিগত রাজনীতি ও বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করছেন নরেন্দ্র মোদী। জি২০-র লোগোতে পদ্মফুল রাখা থেকে সেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্ভবত সেই দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চেয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
তবে ইউক্রেন ও রাশিয়া নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ সর্বোপরি।
বস্তুত রাশিয়া থেকে কম দামে তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত। কিন্তু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে বলেছেন, শান্তির আবেদন জানানোর পাশাপাশি নয়াদিল্লি দেশের স্বার্থে যে অবস্থান নিয়েছে তা সঠিক। তাঁর কথায়, জি২০ শীর্ষ সম্মেলন আন্তর্জাতিক স্তরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মঞ্চ নয়। উষ্ণায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার মধ্যে তা সীমিত থাকা বাঞ্ছনীয়।