কলকাতার ১৮৫ জন নার্স ইস্তফা দিয়ে ফিরে গেলেন মণিপুর, নার্সদের ফেরাতে পারে অন্য রাজ্যগুলিও! বড় সমস্যার মুখে পড়বে শহরের স্বাস্থ্য পরিষেবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের আবহেই এবার বড় সঙ্কটের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলি। কারণ ইতিমধ্যেই মণিপুর সরকার শহর কলকাতা থেকে ১৮৫ জন নার্সকে নিজের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি ভাবে তাঁদের ফেরার ব
শেষ আপডেট: 15 May 2020 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের আবহেই এবার বড় সঙ্কটের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলি। কারণ ইতিমধ্যেই মণিপুর সরকার শহর কলকাতা থেকে ১৮৫ জন নার্সকে নিজের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি ভাবে তাঁদের ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই একই পথে হাঁটতে চলেছে ওড়িশা এবং ত্রিপুরাও। ফলে এত নার্স কলকাতার হাসপাতালগুলি থেকে চলে গেলে, সঙ্কট খুবই বাড়বে।
শুক্রবার পূর্বাঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠনের অন্যতম কর্তা তথা আমরি হাসপাতাল গ্রুপের সিইও রূপক বড়ুয়া এ কথা জানিয়ে বলেন, "অন্য অনেক রাজ্যের পড়ুয়া এ শহরে নার্সিং পড়তে আসেন। পড়ার পরে তাঁরা এখানকারই বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেন। এখন যদি বাইরের রাজ্য থেকে আসা সমস্ত নার্সিং স্টাফরা নিজের রাজ্যে ফিরে যান, তাহলে তীব্র সমস্যার মুখে পড়বে স্বাস্থ্য পরিষেবা।"

স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, এমনিতেই এ রাজ্যে প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা অনেক কম। সেই ঘাটতিই খানিকটা পূরণ করেন ভিন্ রাজ্য থেকে এরাজ্যের নার্সিং কলেজগুলিতে পড়তে আসা পড়ুয়ারা। তাঁরা পড়াশোনা শেষে এখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে নার্সিং স্টাফ হিসেবে কাজে যোগ দেন। এই অবস্থায় তাঁদের নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন সঙ্কট আসন্ন এই করোনা পরিস্থিতিতে।
কারণ এই সময়ে ফ্রন্টলাইনে বীর যোদ্ধাদের মতো লড়ছেন নার্সরাই। চিকিৎসা ডাক্তাররা করলেও, সে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ কার্যক্ষেত্রে সম্পন্ন করার ব্যাপারে এবং পরিচর্যা করার ব্যাপারে নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম। ফলে
যদি সত্যিই এমনটা ঘটে, তাহলে কীভাবে এত রোগীর পরিষেবা দেওয়া হবে তা নিয়ে চিন্তিত কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যের পাঠানো বাসে করে ইতিমধ্যেই মণিপুরের পথে রওনা দিয়েছেন এ শহরের ১৮৫ জন নার্স। ফলে কলকাতার বহু বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্কট শুরুও হয়ে গেছে। যেমন চার্নক হাসপাতাল থেকে ২৭ জন নার্সের ইস্তফা দেওয়ার খবর এসেছে। পিয়ারলেস হাসপাতাল থেকে ২৫ জন নার্স চলে গেছেন। আরএন টেগোর হাসপাতাল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ১০ জন নার্স। অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকেও চলে গেছেন ১০ জন নার্স, রুবি জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৬ জন।
এই অবস্থায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে অন্য রাজ্যের নার্সরাও ছাড়তে পারেন চাকরি। তা হলে যে শহরের চিকিৎসা পরিকাঠামো বড় সমস্যার মুখে দাঁড়াবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
রূপক বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, "সংকটের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন কেরালা ও কর্নাটক থেকে অনেক বেশি সংখ্যক নার্স নিয়োগ করতে হবে আমাদের। তাহলে খানিকটা সামাল দেওয়া যেতে পারে পরিস্থিতি।"