দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘নীচ আদমি’ বলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আয়ার। এরপর মঙ্গলবার দিল্লির শাহিনবাগে গিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে ফের বিতর্ক ছড়াবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। সেখানে বিক্ষোভরত মহিলাদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অব দেখেঁ কি কিস কা হাথ মজবুত হ্যায়, হামারা ইয়া উস কাতিল কা।”
বিজেপি সরকারের নিন্দা করে মণিশংকর বলেন, “তারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। বাস্তবে তারা যা করেছে, তা হল সবকা সাথ, সবকা বিনাশ।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপ হি নে উনকা প্রধানমন্ত্রী বানায়া হ্যায়, আপ হি উনকো সিংহাসন সে উতার সকতে হো।” পরে তিনি বলেন, শাহিনবাগে আন্দোলনরত মহিলাদের সবরকম সাহায্য করতে রাজি। তাঁর কথায়, “আপনাদের জন্য আমি সবরকম আত্মত্যাগ করব। দেখা যাক কাদের হাত বেশি শক্তিশালী, আমাদের না ওই খুনিদের।”
শাহিনবাগ জায়গাটা কালিন্দী কুঞ্জের কাছে। ওই পথ দিয়ে ফরিদাবাদ ও নয়ডায় যাওয়া যায়। বিক্ষোভের জন্য সেখানে রাস্তা বন্ধ। সেজন্য অনেকে ঘুরপথে যাতায়াত করছেন। দিল্লি-নয়ডা-দিল্লি এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যাপক যানজট দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালে দিল্লির বিজেপি নেতা মনোজ তেওয়ারি অবস্থানরতদের উদ্দেশে টুইট করে আবেদন জানিয়েছেন, আপনারা রাস্তা থেকে সরে যান। একইসঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিক্ষোভের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশ নেই।
সাংসদ মনোজ তেওয়ারির কথায়, “আমি উদ্বিগ্ন। তাই এই ভিডিও বানিয়েছি। শাহিনবাগে বিক্ষোভের জন্য বহু মানুষ রোজ সমস্যায় পড়ছেন। যে পথ যেতে ২৫ মিনিট লাগত, তা যেতে লাগছে দু’-তিন ঘণ্টা।” বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নাগরিকত্ব আইন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। শিখ, খ্রিস্টান কিংবা ইসলাম, কোনও ধর্মের মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যারা চলে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আইন সংশোধিত হয়েছে। কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”