মুনওয়াক' করছেন দুই মহাকাশচারী, পাশ দিয়ে ঢিমে তালে বেরিয়ে যাচ্ছে স্কুটার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খানাখন্দে ভরা অসমতল মাটি। স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত। রুক্ষ অসমান চাঁদের মাটিতে হাঁটছেন এক মহাকাশচারী। পরনে স্পেস-স্যুট। কিন্তু এ কী? পায়ে স্নিকার্স কেন? হাতেও নেই বিশেষ গ্লাভস! ব্যাপারটা কী? সন্দেহটা বাড়বে, যখন দেখবেন মহা
শেষ আপডেট: 24 September 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খানাখন্দে ভরা অসমতল মাটি। স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত। রুক্ষ অসমান চাঁদের মাটিতে হাঁটছেন এক মহাকাশচারী। পরনে স্পেস-স্যুট। কিন্তু এ কী? পায়ে স্নিকার্স কেন? হাতেও নেই বিশেষ গ্লাভস! ব্যাপারটা কী? সন্দেহটা বাড়বে, যখন দেখবেন মহাকাশচারীকে 'মুনওয়াক' করতে দেখছেন দুই স্কুটার আরোহী। পাশ দিয়ে হুশ করে বেরিয়ে গেল অটোও। আসলে এ চাঁদ সে চাঁদ নয়। এটা হলো চাঁদের মতোই এবড়ো-খেবড়ো খানাখন্দে ভরা মাটি। আর সেটাও এ দেশেই।
বেঙ্গালুরুর শিল্পী বাদল নানজুনদাস্বামীর 'মুনওয়াক'-এর ভিডিও যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের কাছে বিষয়টা মোটেও আশ্চর্যের লাগবে না। বেঙ্গালুরুর হাল্লি ক্রস বাসস্টপের খন্দে ভরা বিপজ্জনক রাস্তায় মহাকাশচারীর পোশাকে হেঁটে পুরসভাকে নীরব ধিক্কার জানিয়েছিলেন বাদল। তাঁর পোস্ট করা সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিল। নড়েচড়ে বসেছিল বেঙ্গালুরু পুরসভা। বাদলের প্রতিবাদের ভাষাকে সমর্থন করেছিলেন মেক্সিকোর এক শিল্পীও। এ বার খন্দে-প্রতিবাদ জানাল মেঙ্গালুরু।
মেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল মার্কেট রোডে মহাকাশচারীর কায়দায় হাঁটল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অ্যাডলিন ডি’সিলভা। সেই ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউবে শেয়ার করল 'এমসিসি সিভিক গ্রুপ'। মেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল মার্কেট এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা ঠিক কেমন, সেটা ভিডিও দেখলেই মালুম হয়। এমসিসি সিভিক গ্রুপের সহযোগী ডিরেক্টর অর্জুন মাসকারেনহাস বলেছেন, "বৃষ্টি হলে এই গর্তগুলো জলে ভরে যায়। প্রায় দিনই কোনও না কোনও দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকবার পুরসভাকে জানানো হয়েছে, কিন্তু লাভ হয়নি। বর্ষা চলে গেলেও রাস্তা সারাইয়ের কাজে কোনও উৎসাহ দেখা যায় না পুরকর্মীদের।"
https://www.facebook.com/arjun.mascarenhas.1/videos/725943447844322/
অ্যাডলিন একা নয়, এই প্রতিবাদে সামিল নার্সারির এক ছাত্রীও। মেঙ্গালুরুর খানাখন্দে ভরা বাসাভানাগুড়ি রোডে মহাকাশচারীর পোশাকে হেঁটে পুরসভাকে ধিক্কার জানাল খুদে নীতা সি গোবিন্দ। নীতার ভিডিও দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা।
https://www.youtube.com/watch?time_continue=218&v=zJz_vmBgxfY
খন্দে-প্রতিবাদের পথ দেখিয়েছিলেন বাদল নানজুনদাস্বামী। তাঁর পোস্ট করা ভিডিওটি ছিল বেশ মজার। বেঙ্গালুরুর গর্তে ভরা হিরো হাল্লি এলাকায় শ্যুট করা হয়েছিল সেটি। এবড়োখেবড়ো রাস্তায় মহাকাশচারীর স্যুট পরা বাদলকে দেখে এক ঝলকে ‘অপটিকাল ইল্যুশন’ হয় সকলেরই। ভিডিয়োর ক্যাপশনে বাদল লিখেছিলেন ‘হ্যালো বিবিএমপি কমিশনার’। বাদলের প্রতিবাদের পরই হিরো হাল্লি ক্রস বাসস্টপের সেই রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে বেঙ্গালুরু পুরসভা। এখন নাকি এখন জালন্ধর, এমনকী কোস্টারিকা থেকেও তাঁর প্রোফাইলে মেসেজ আসছে— ‘‘এমন শ্যুটিং এখানেও করুন, যদি কাজ হয়!’’
কখনও খোঁচা, তো কখনও নীরব প্রতিবাদ। ঝড়টা তুলে দিয়েছেন বেঙ্গালুরর শিল্পী বাদল। এখন দেখার পুরসভার টনক সত্যি নড়ে কিনা!
