
শেষ আপডেট: 15 July 2022 05:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পরে গলা থেকে মঙ্গলসূত্র (Mangalsutra) খুলে রাখার (Removing) অর্থ নাকি স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা (Cruelty)! এটি স্ত্রীর মানসিক ক্রূরতার পরিচয়! সম্প্রতি একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় এমনই রায় দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras Highcourt)! শুধু তাই নয়, বিচারপতি ভিএম ভেলুমণি ও এস সান্থারের ডিভিশন বেঞ্চ এও দাবি করে, কোনও হিন্দু মহিলা নাকি তাঁর স্বামী বেঁচে থাকার সময়ে কখনওই গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খোলেন না। এই কথা বলে ওই মামলায় ডিভোর্সের অনুমতিও দিয়েছে হাইকোর্ট।
এই রায় শুনে ঝড় বয়ে গেছে সারা দেশে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে মঙ্গলসূত্র পরা বা না-পরা নিয়ে এত বড় কথা কী করে বলতে পারে হাইকোর্টের মতো একটা সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। কী করেই বা এই বিষয়ের ভিত্তিতে ডিভোর্স মঞ্জুর করতে পারে!
জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্থানীয় ফ্যামিলি কোর্টে খারিজ হয়েছিল সি শিবকুমার নামের এক ব্যক্তির বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন। শিবকুমার একটি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেন। ২০১৬ সালের সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই মামলার শুনানির সময়ই উঠে আসে, তাঁর স্ত্রীর মঙ্গলসূত্র খুলে রাখার বিষয়টি।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সওয়াল জবাব চলার সময়ে সময় ওই মহিলা স্বীকার করে নেন, তিনি মঙ্গলসূত্রের চেনটি খুলে রেখেছিলেন। তবে তাঁর গলায় ছিল 'থালি'। দক্ষিণ ভারতে মঙ্গলসূত্রকে থালি চেন বলা হয়। মহিলা দাবি করেন, তিনি সোনার চেনটি খুলে রাখলেও তার যে থালি অংশটি, সেটি কিন্তু পরেই ছিলেন।
এর পরে মহিলার আইনজীবীও আদালতে জানান, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ৭ নম্বর পরিচ্ছদে উল্লেখ রয়েছে, বিবাহিত মহিলার মঙ্গলসূত্র পরে থাকাটা আবশ্যিক নয়। তা খুলে রাখলেও বৈবাহিক সম্পর্কে তার কোনও প্রভাব পড়ে না।
তবে এই যুক্তিকে গ্রাহ্য করেননি বিচারপতিরা। শুনানির পরে দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ওই মহিলা গলার চেন খুলে ব্যাঙ্কের লকারে রেখে দিয়েছিলেন, যা ক্রূর আচরণ। বিচারপতিদের দাবি, এটা সকলেরই জানা যে, কোনও হিন্দু মহিলা তাঁর স্বামী বেঁচে থাকার সময়ে কখনওই গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খোলেন না। কারণ এটি একটি পবিত্র বস্তু, যা বিবাহিত জীবনের প্রতীক। একমাত্র স্বামীর মৃত্যুতেই এই প্রতীক খোলা যায়। তাই স্বামী বেঁচে থাকতেই এটি খুলে রাখার অর্থ স্বামীর প্রতি চরম নিষ্ঠুর মানসিকতা।
তবে বিচারপতিরা এও জানিয়েছেন, চেন খুলে রাখা মানেই বিবাহিত জীবন শেষ করে দিতে চাওয়া এমনটা নয়, কিন্তু এই ধরনের আচরণ মহিলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছে। এটি তাঁর ক্রূরতার পরিচায়ক।
দু’টাকা করে দিয়ে প্রযোজক হন পাঁচ লাখ কৃষক! ফিরে দেখা দেশের প্রথম ক্রাউড ফান্ডিং সিনেমা