দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেড়াতে এসে ভিসার মেয়াদ শেষ, ফুরিয়েছে টাকা। এই অবস্থায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরত্ব সাঁতরে পার করে দেশে ফেরার চেষ্টা করলেন যুবক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইস্ট টিমোর থেকে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছনোর জন্য সাঁতার কাটা শুরু করলেও, শেষমেশ পুরো পথটা পেরোতে পারেননি তিনি। মৃতপ্রায় অবস্থায় ইন্দোনেশিয়ায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে।
হামিনুমনা আবদুল রহমান নামের ৩১ বছরের ওই আলজেরিয়ান যুবক ডিসেম্বরে ইস্ট টিমোর এসেছিলেন। তখন থেকেই রাজধানী দিলিতে ছিলেন তিনি। তখনই ঠিক করেন অস্ট্রেলিয়া যাবেন। কিন্তু ভিসা পাননি। আর অপেক্ষা করাও সম্ভব ছিল না তাঁর পক্ষে, কারণ ফুরিয়ে গেছিল টাকা। এমন অবস্থায় বড়সড় ঝুঁকি নিয়ে নেন আবদুল রহমান। ঠিক করেন, সাঁতার কেটেই পৌঁছবেন অস্ট্রেলিয়া। ৫৭০ কিলোমিটার দূরত্ব।
কিন্তু মানুষের পক্ষে কখনওই এমনটা সম্ভব নয়। কনকনে ঠান্ডা, প্রতিকূল স্রোত, শারীরিক ক্লান্তি—সব মিলিয়ে এই দূরত্ব সাঁতরে পার করা অসম্ভব।
হলও তাই। সাঁতার কাটতে কাটতে স্রোতের প্রতিকূলতায় চলে এলেন উল্টোদিকে। পৌঁছে গেলেন ইন্দোনেশিয়ার কাছে। তখনই ফুরিয়ে আসে শক্তি। তীরের দিকে সাঁতরানোর চেষ্টা করতে থাকেন তখন তিনি। ভাগ্যক্রমে একজন মৎস্যজীবী সে সময় নৌকা নিয়ে সমুদ্রে নেমেছিলেন। তিনিই দেখতে পান আবদুল রহমানকে মৃতপ্রায় অবস্থায় ভাসতে। উদ্ধার করেন তাঁকে। তীরে পৌঁছনোর পরে চরম দুর্বল অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
তবে এমন ঘটনা নতুন নয়। আফগানিস্তান, ইয়েমেন, ইরান থেকে প্রচুর মানুষ অবৈধ ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন এক সময়ে। তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটা ছিল ৫০ হাজার। এর পরে জলপথে অবৈধ ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নতুন একটি কঠোর নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। ধরা পড়লে অভিযুক্তকে ভিসা দেওয়ার উপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। এই কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর থেকে নানারকম ঝুঁকি নিয়ে সে দেশে পাড়ি দিতে শুরু করেছে অনুপ্রবেশকারীরা।
পুলিশি জেরায় জানা গেছে, আবদুল রহমানও তাঁদের মতোই একজন। অনেক দিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু নানাকারণে হয়ে ওঠেনি। শেষমেশ ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে টিমোর অবধি এসে পৌঁছন। ভেবেছিলেন, সেখান থেকে কোনও না কোনও ভাবে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত চলে যাবেন। কিন্তু তেমনটাও না হওয়ায়, এই অসম্ভব পথ নিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন সাঁতরে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।