
শেষ আপডেট: 11 April 2023 03:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল বছর ১৫ আগে। তখন ২০০৮ সাল। ছেলে সেরিব্রাল পলসিতে (cerebral palsy) আক্রান্ত। নিজের নামটাও মনে করতে পারে না। এমন ছেলেকে খুঁজে পাওয়াই ছিল অসাধ্য ব্যাপার। গত ১৫ বছর ধরে ছেলেকে খুঁজেছেন মা-বাবা। কিন্তু পাওয়া যায়নি। এত বছর পর গতকাল সোমবার হঠাৎই ছেলের খোঁজ নিয়ে ঠিকানা খুঁজে বাড়িতে হাজির হলেন পুলিশ কর্তারা। বিস্ময়ে, আনন্দে চোখ ভিজল বাবা-মায়ের। ছেলেকে ফিরে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন মা।
হরিশ চন্দ্র ঝা পেশায় পুরোহিত। তাঁর স্ত্রী দয়া দেবী। তাঁদের ছেলে জন্ম থেকেই মস্তিষ্কের অসুখে ভুগছে। ২০০৮ সালে ছেলে হারিয়ে যায়। এরপর থানায় নিখোঁজ ডায়রি করে, হন্যে হয়ে ছেলেকে খুঁজেও পাননি তাঁরা। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় রবীন্দ্র নগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছেলেটি ঘোরাঘুরি করছিল। সেখানকার বাসিন্দারাই পুলিশকে বিষয়টা জানান। পুলিশ এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে। তার নাম জিজ্ঞাসা করায় সে বলতে পারেনি। ছেলেটিকে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন পুলিশের আধিকারিকরা।
আমাদের এক চিলতে জমিও দেব না, অরুণাচলের মাটিতে দাঁড়িয়ে চিনকে হুঁশিয়ারি শাহের
হাসপাতালে ডাক্তাররা টেস্ট করে জানান, ছেলেটি সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত। সেরিব্রাল পলসি হল মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির সমস্যা। জন্মের সময়ে বা তার কয়েক মাসের মধ্যেই মস্তিষ্কের একটি বিশেষ কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক পেশিকে নড়াচড়ার নির্দেশ দিলে পেশির কাছে তা পৌঁছায় না। ফলে হাঁটাচলা করা তো দূরের ব্যাপার, পাশ ফিরে শুতেও পারেন না এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটি নিজের পরিচয় দিতে পারেনি। কোথায় থাকত সেটাও ভুলে গেছে সে।
ছেলেটির ছবি আসপাশের সমস্ত থানায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে ছেলেটির ছবি ছড়িয়ে দেয় পুলিশ। ছবি দেখে যোগাযোগ করেন ছেলেটির মা-বাবা। হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে শণাক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। ওই দম্পতির আরও চার মেয়ে রয়েছে।