দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমার কাছে বন্দুক আছে। তোমাকে এখনই গুলি করব। গত ১০ অগাস্ট আমেরিকার হোয়াইট হাউসের এক রক্ষীর কাছে গিয়ে একথা বলেন মায়রন বেরিম্যান। তাঁর বয়স ৫১। রক্ষীকে হুমকি দেওয়ার পরে ডানদিকে প্যান্টের পকেট থেকে তিনি কিছু একটা বার করার চেষ্টা করেন। রক্ষীও কালবিলম্ব না করে গুলি করেন মায়রনকে। পরে জানা যায়, তিনি পকেট থেকে যে জিনিসটি বার করেছিলেন, তা ছিল একটি চিরুনি। ওই চিরুনি বাদে মায়রনের কাছে আর কিছু ছিল না। বৃহস্পতিবার ডিসি সুপিরিয়র কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি হয়। তাঁর আইনজীবী জানান, মায়রনকে মানসিক রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিসের অফিসাররা জানিয়েছেন, মায়রনের পেটে গুলি লাগে। তারপর তাঁর হাত থেকে কিছু একটা পড়ে যায়। পরে রক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরুনি কুড়িয়ে পান। যিনি মায়রনকে গুলি করেছিলেন, তিনিও পরে বুঝতে পারেন, প্রৌঢ়ের কাছে বন্দুক ছিল না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন দুই পুলিস অফিসার আমেরিকার 'ওয়াশিংটন পোস্ট' সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, মায়রন চিৎকার করে বলছিলেন, আমার কাছে বন্দুক আছে। তোমাকে খুন করব।
পুলিস চার্জশিটে জানিয়েছে, ইউনিফর্ম পরা এক রক্ষী দাঁড়িয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের পশ্চিম দিকে। মায়রন পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ধরে হেঁটে আসছিলেন। সিসিটিভি-র ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মায়রন রক্ষীকে কিছু একটা বললেন। ওই রক্ষীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মায়রনের অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল ডোরসি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর মক্কেল কখনই কাউকে খুন করব বলে হুমকি দেননি। ডোরসি জানিয়েছেন, প্রথমে মায়রনকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাঁকে সাইক্রিয়াটিক ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটনে ভর্তি করা হয়। আদালত মায়রনকে মানসিক রোগীদের হাসপাতালে রাখার বিরোধিতা করেনি। মামলার পরবর্তী দিন ঠিক হয়েছে জানুয়ারিতে।
পুলিস অফিসাররা জানিয়েছেন, ঘটনার দু'দিন পরে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে মায়রনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মায়রন বলেন, সেদিন কী ঘটেছিল তাঁর স্পষ্ট মনে নেই। পুলিস জানতে পারে, মায়রন স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় ভুগছেন। তাঁকে আগেও হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। পরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা করা হত।
মায়রনকে হাসপাতালে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, মানসিক রোগের জন্য তাঁকে যেসব ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তিন বছর আগেই সেসব খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন হাসপাতালে তাঁকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।