দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাশিয়ার প্রত্যন্ত ও দুর্গম তুভা অঞ্চল। সেখানে ভাল্লুকের গুহায় শুয়ে এক জীবন্ত মমি। শুকিয়ে যাওয়া কাঠের মতো শরীর। চামড়ার উপর অজস্র ক্ষত আর শুকনো রক্তের দাগ। বেঁচে থাকার কোনও লক্ষণই নেই তার শরীরে। কিন্তু উদ্ধারকারীরা কাছে যেতেই চোখ খুলল সেই মমি। নীল চোখ ঝলসে উঠলো বাঁচার আশায়।
ভাল্লুকের থাবায় ভেঙে যাওয়া শিরদাঁড়া, ক্ষতবিক্ষত শরীর, কিচ্ছু না খেয়ে, শুধুমাত্র নিজের প্রস্রাব পান করে প্রত্যন্ত গুহার অন্ধকারে মাসখানেক পড়েছিলেন আলেকজান্ডার। উদ্ধারকারীদের শুধু নিজের নামটুকুই বলতে পেরেছেন ওই ব্যক্তি। নিজের পদবী, বয়স, কোথাকার বাসিন্দা, ওই এলাকায় কেমন করে এলেন, কিছুই বলতে পারেননি তিনি। ঘোরতর অসুস্থতা ও শকে সবই প্রায় সাময়িক ভাবে ভুলে গেছেন আলেকজান্ডার। কিন্তু যা তাঁর উদ্ধারকারী ও ডাক্তারদের আশ্চর্য করছে, তা হলো কোনও মন্ত্রবলে বেঁচে আছেন আলেকজান্ডার! টানা একমাস তিনি কিছু খাননি, তাঁর শরীরে মারাত্মক সব আঘাত, সংক্রমণ, শিরদাঁড়া ভেঙে যাওয়ায় এক জায়গায় একমাস ধরে পড়ে আছেন। সৌভাগ্যবশত তাঁকে খাবার হিসেবে আধমরা করে রেখে গেছে যে ব্রাউন বিয়ার, সে ফিরে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তবর্তী তুভা অঞ্চলে প্রচুর ব্রাউন ও গ্রিজ়লি বিয়ার দেখতে পাওয়া যায়। এই ভাল্লুকরা গরমের সময় শিকার করে গুহা বা গাছের ফাঁপা কোটরে জমিয়ে রাখে। শীত পড়লে আর শিকারে বেরোয় না। শীতের শুরুতেই তারা জমিয়ে রাখা খাবার খেয়ে ফেলে। তার পর থেকে টানা কিছুদিন তারা কার্যত আর কিছু খায় না। তারা যা শিকার করে, তা যাতে অন্য কোনও প্রাণী খেয়ে না ফেলে তাই লুকিযে রাখে সেই শিকার। তার পর তাতে পচন ধরলে ভাল্লুক সেই মাংস খেতে পছন্দ করে। আলেকজান্ডারকে সম্ভবত সেই কারণেই গুহার ভিতরে লুকিয়ে রেখেছিল সে। ব্রাউন বিয়ার যে শুধু মাংসাশী তা নয়, তারা ফলমূল, গাছ খেতেও পছন্দ করে। তবে এই ভাল্লুক একা থাকতে পছন্দ করে। যৌন মিলন ও সন্তানদের দেখভাল করার সময় ছাড়া তারা গুহায় একা একাই থাকে।
তুভা অঞ্চলের ওই গুহার কাছ দিয়েই যাচ্ছিলেন একদল শিকারী। তাঁদের কুকুরগুলি গুহার কাছে গিয়ে খুব জোর চিৎকার করতে থাকে। তারা সেখান থেকে নড়তেই চাইছিল না। তা দেখে শিকারীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা আরও একটু ভিতরের দিকে গিয়ে দেখেন, একটি মানুষের মমি পড়ে আছে। খুব কাছে যেতেই চোখ মেলে সে। তখন বোঝা যায় বেঁচে আছেন তিনি।