
শেষ আপডেট: 12 July 2019 18:30
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের কথায়, এ দিন পৌনে সাতটা নাগাদ পার্ক স্ট্রিট থেকে কবি সুভাষগামী মেট্রোয় ওঠার চেষ্টা করছিলেন সজলবাবু। মেট্রোতে ভিড় থাকায় তিনি চটজলদি উঠতে পারেননি। সামনের দিক থেকে মেট্রোর তৃতীয় কামরায় ওঠার সময়েই দরজা বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। মরিয়া হয়ে তিনি হাত বাড়িয়ে দেন দরজার দিকে। বাকি যাত্রীদের কথায়, সম্ভবত তাঁর ধারণা ছিল হাতের স্পর্শ পেলেই স্বয়ংক্রিয় দরজা ফের খুলে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং দুই দরজার মাঝে হাত আটকানো অবস্থাতেই মেট্রো চলতে শুরু করে দেয়। পরিত্রাহি চিৎকার শুরু করেন সজল বাবু।
[caption id="attachment_123403" align="aligncenter" width="357"]
সজল কুমার কাঞ্জিলাল[/caption]
আরও পড়ুন: মেট্রোয় মৃত্যু : কে দায়ী, গাফিলতিই বা কোথায়?
প্রথমটা ভিতর থেকে বোঝা না গেলেও, পরে এক যাত্রীকে চলন্ত মেট্রোর সঙ্গে ঝুলতে দেখে চেঁচিয়ে ওঠেন ভিতরের যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, চালকের কানে খবর গেলেও তিনি ট্রেন থামাননি। উল্টে ট্রেন এগিয়ে যায় আরও কয়েক কিলোমিটার।হাত আটকানো অবস্থায় লাইনের উপর হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতেই এগিয়ে চলে যাত্রীর শরীর। সজল বাবুর দেহ উদ্ধার হয় প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৬০ মিটার দূরে লাইনের উপর। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
মর্মান্তিক এই ঘটনা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। তাঁদের অধিকাংশের অভিযোগ, কখনও রেক বিকল, কখনও ধোঁয়া, যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়। এক জন যাত্রীর হাত ভিতরে থাকা অবস্থায় এতটা পথ মেট্রো চললই বা কী করে? তার থেকেও বড় প্রশ্ন, গেট বন্ধ না হওয়ার কোনও সিগন্যালই বা কেন মেট্রোর চালক পেলেন না? প্ল্যাটফর্মে থাকা আরপিএফ কর্মীরাও জরুরিকালীন কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেননি কেন, উঠেছে সেই অভিযোগও।
দুর্ঘটনার পরেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ডিসি (দক্ষিণ) মিরাজ খালিদের নেতৃত্বে পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। পৌঁছয় দমকল বাহিনী। মেয়র বলেছেন, "কী ভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোর চালক ও গার্ডকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে।" ঘটনার পরেই প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আগে মেট্রোর জন্য আলাদা জোন তৈরি করেছিলাম। এখন আর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। নতুন একটাও প্রকল্প করেনি ওরা। কলকাতায় মেট্রো রেল সবচেয়ে অবহেলিত।"
কলকাতা মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "মেট্রো রেলে এমন ঘটনা প্রথম। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-kolkata-passenger-died-due-to-hand-stuck-into-metro-door/