দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার মধ্যরাতে রাজস্থানের বেগু থানায় খবর আসে, কয়েকজনকে মারধর করছে স্থানীয় জনতা। আক্রান্তরা গাড়িতে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। জনতার সন্দেহ, তাঁরা গরু পাচারকারী।
পরে পুলিশ জানায়, রাজস্থানে চিতোরগড়ের বেগু অঞ্চলে গোরক্ষকদের মারে নিহত হয়েছেন একজন। আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের বাড়ি ছিল মধ্যপ্রদেশের আছালপুরে। তাঁর নাম ছিল বাবুলাল ভিল। তিনি ও তাঁর এক সঙ্গী গাড়িতে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে জনতা তাঁদের থামতে বাধ্য করে। গাড়ি থেকে নামিয়ে দু'জনকে মারধর করা হয়।
রাজ্য পুলিশের উদয়পুরে রেঞ্জের ইনসপেক্টর জেনারেল সত্যবীর সিং জানিয়েছেন, বাবু ও পিন্টু নামে দুই ব্যক্তি গাড়িতে গরু নিয়ে যাচ্ছিল। রাইতি গ্রামের লোকজন তাঁদের ওপরে হামলা করে। তারা আক্রান্তদের নথিপত্র ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। আমাদের অফিসাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে দু'জনকে উদ্ধার করে। পুলিশ দেখে জনতা পালিয়ে যায়। পিন্টুর অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
আইজি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না।
সোমবারই জানা যায়, গত ৫ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার লোনি অঞ্চলে এক বয়স্ক মুসলিম ভদ্রলোককে মারধর করেছে কয়েকজন তরুণ। আবদুল সামসাদ নামে ওই ব্যক্তি মসজিদে নমাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। তাঁকে মাঝপথে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী একটি বাড়িতে। সেখানে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আক্রমণকারীরা 'জয় শ্রীরাম', 'বন্দেমাতরম্' ধ্বনি দিচ্ছিল। তারা বলছিল, সামাদ পাকিস্তানের গুপ্তচর।
ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আক্রমণকারীদের একজন ফুলহাতা সাদা টি শার্ট ও নীল প্যান্ট পরে আছে। তার হাতে ছিল ছুরি। অপর এক আক্রমণকারীর পরনে ছিল কালো শার্ট ও লাল ট্রাউজার। আর একজনের পরনে ছিল আকাশি রং-এর টি শার্ট ও ধূসর রং-এর ট্রাউজার।
সামসাদ বলেন, "মসজিদে যাওয়ার সময় পথে কয়েকজন আমাকে অটোতে উঠতে বলে। সেই অটোতে আগে থেকে দু'জন যাত্রী ছিল। অটো মসজিদের বদলে কাছেই একটি বাড়িতে আমাকে নিয়ে যায়। একটা ঘরে বন্ধ রেখে তারা আমাকে মারধর করে। তারা আমাকে তাদের স্লোগান দিতে বাধ্য করে। আমার মোবাইল কেড়ে নেয়।" আক্রমণকারীরা বলে, তারা আগে অনেক মুসলিমকে মেরেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তের নাম প্রভেশ গুজ্জর। তার নামে মামলা করা হয়েছে।