অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা টিপে খুন, দেহ কুচি কুচি করে কেটে জ্বালিয়ে দিল স্বামী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই মেয়ের পরে আরও একটা কন্যাসন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন স্ত্রী, সন্দেহ দানা বেঁধেছিল এমনই। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর উপরে শারীরিক নির্যাতন চলত রোজই। একদিন তর্ক চরমে ওঠে। রাগের মাথায় নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেই শ্বাসরোধ করে খুন কর
শেষ আপডেট: 15 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই মেয়ের পরে আরও একটা কন্যাসন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন স্ত্রী, সন্দেহ দানা বেঁধেছিল এমনই। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর উপরে শারীরিক নির্যাতন চলত রোজই। একদিন তর্ক চরমে ওঠে। রাগের মাথায় নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেই শ্বাসরোধ করে খুন করে স্বামী। প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ কুচি কুচি করে কেটে জ্বালিয়ে দেয়। এরপরেও শান্তি না মেলায় সেই পোড়া ছাই ফেলে দিয়ে আসে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে।
উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীতে এই ঘটনা ঘটে গত ৪ জানুয়ারি। চোখের সামনেই মাকে খুন হতে দেখেছিল বছর এগারোর মেয়েটা। এতদিন ভয় আর আতঙ্কে মুখ বন্ধ রাখলেও অবশেষে পুলিশের কাছে গোটা ঘটনাই জানিয়েছে সে। আর ঘটনায় বীভৎসতায় চমকে উঠেছেন পুলিশ কর্তারাও। অভিযুক্ত রবীন্দ্র কুমারকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরায় স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকারও করেছে সে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম উর্মিলা। বয়স ২৭ বছর। ২০১১ সালে রবীন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে হয় উর্মিলার। তাঁদের ৭ বছর ও ১১ বছরের দু’টি মেয়েও রয়েছে। উর্মিলার বোন বিদ্যা দেবীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর দিদির উপর চূড়ান্ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত রবীন্দ্র। দুই মেয়ে জন্মাবার পরে সেই অত্যাচার চরমে ওঠে। রবীন্দ্র চেয়েছিল তাঁর স্ত্রী পুত্রসন্তানের জন্ম দিক। সেই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও চলত।
পুলিশ সুপার বিনীত সিং বলেছেন, জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে তৃতীয়বার তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মনে হয়েছিল এবারও মেয়েই জন্মাবে। সেই নিয়ে অশান্তি চলার মাঝেই রাগের মাথায় স্ত্রীকে খুন করে ফেলে সে। তারপর অপরাধ ধামাচাপা দিতেই এত আয়োজন।

তদন্তকারীদের কথায়, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এত নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা নজিরবিহীন। অভিযুক্ত জানিয়েছে, প্রথমে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে স্ত্রীকে। তারপর দেহ শতটুকরো করে জ্বালিয়ে দেয়। পোড়া ছাই বাড়ি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দেয়।