দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন বিজেপির সভাপতি জে পি নড্ডা। তাঁর কনভয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়। বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতার গাড়ি ভাঙচুর হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই হামলা পরিকল্পিত নয় তো? শুক্রবার নড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেছেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।
রাজ্যপালের কথায়, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ-প্রশাসনের অনেককে আমি বার বার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছি। তা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েই চলেছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এই রাজ্যে সংবিধান মেনে সরকার চালানো খুব কঠিন হয়ে উঠছে।"
এরপর সরাসরি নড্ডার কনভয়ে হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, "গতকাল যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় আঘাত লেগেছে। গণতন্ত্রের প্রত্যেকেরই স্থান আছে। সকলেই নিজের মতামত জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। গতকাল কিন্তু তা হয়নি।" এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল শিলিগুড়ির ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, "শিলিগুড়িতে বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখানো হয়েছিল। যারা আইন ভঙ্গ করেছিল, তাদের সাহায্য করেছে সরকার।" পরে তিনি বলেন, "গতকাল ছিল মানবাধিকার দিবস। সারা বিশ্ব ওই দিনটি পালন করছিল। গতকাল পশ্চিমবঙ্গে মানবাধিকার রক্ষিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য আমার কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে।"
মমতার সমালোচনা করে রাজ্যপাল বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর একটা দায়িত্ব আছে। তিনি সংবিধান মেনে চলত বাধ্য। তিনি কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে এই মন্তব্য খাপ খায় না। আমি টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, ম্যাডাম দয়া করে ভেবে দেখুন। বাংলার সংস্কৃতিকে সম্মান করুন। আপনার মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিন।"
পরে তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী অতীতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। তিনি একজন বড় নেত্রী। তিনি দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। আমি তাঁর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। ক্ষমা চান। তাতে তাঁর ভাবমূর্তির উন্নতি হবে।"
নড্ডার গাড়ির ওপরে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যপালের কাছে এসম্পর্কে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বিজেপি সভাপতির কনভয়ে হামলার ঘটনাকে 'বর্বরোচিত' বলে চিহ্নিত করেছেন।