উদ্বিগ্ন ছিলেনই, পাঁচ বাঙালি খুনের পর ফের গর্জে উঠলেন মমতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেল। কোচবিহার শহরের রাস মেলা মাঠের সভা থেকে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ (এনআরসি) ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং অসম সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটচল্লিশ ঘণ্টা কেটেছে কি ক
শেষ আপডেট: 1 November 2018 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেল। কোচবিহার শহরের রাস মেলা মাঠের সভা থেকে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ (এনআরসি) ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং অসম সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটচল্লিশ ঘণ্টা কেটেছে কি কাটেনি! অসমে আলফা জঙ্গিদের হাতে খুন হয়ে গেলেন পাঁচ জন বাঙালি। উত্তরবঙ্গ সফর শেষ হয়নি মমতার। শুক্রবার ফেরার কথা তাঁর। এরমধ্যেই এমন ঘটনায় গর্জে উঠলেন তৃণমূলনেত্রী। ডাক দিলেন সর্বত্র প্রতিবাদ সংগঠিত করার।
খবর পাওয়ার পর থেকেই টুইটের পর টুইট করতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওটায় নৃশংসতায় শিউরে উঠে কোনওটায় আবার গোটা দলকে রাস্তায় নামানোর ডাক দিয়ে। শুক্রবার রাজ্যের সর্বত্র প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেত্রীর বার্তা পেয়ে যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘোষণা করে দিলেন, দুপুর ১টার সময় শুরু হবে প্রতিবাদ মিছিল। যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল হবে হাজরা মোড় পর্যন্ত।
Breaking: অসমে ৫ বাঙালিকে খুন করল জঙ্গিরা, নিন্দায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসম জুড়ে বন্ধের ডাক
গত ৩০ জুলাই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করেছিল অসম সরকার। বাদ গিয়েছিল লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম। তখনই প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু মুখে নয়। ফিরহাদ হাকিম, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুখেন্দু শেখর রায়, মমতাবালা ঠাকুর, মহুয়া মৈত্রদের অসম পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নেত্রী। কিন্তু অসম সরকার তাঁদের নিরাপত্তার বিধি দেখিয়ে ঢুকতেই দেয়নি। শিলচর বিমানবন্দর থেকে পরের দিন সকালের বিমান ধরেই কলকাতা ফিরে আসতে হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে। কিন্তু প্রতিবাদ থামাননি মমতা। বিশপদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার দিল্লি সফরে গিয়ে দেখা করেছিলেন গৃহমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে। উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ।
প্রসঙ্গত এনআরসি পরবর্তী সময় থেকেই অসমের গ্রামগঞ্জের বাঙালিরা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। ভিটে হারানোর আতঙ্কে আত্মহত্যা করছেন। এখনও পর্যন্ত তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে যেমন আছেন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টারমশাই। তেমন রয়েছেন সাইকেল মেকানিক। অভিযোগ, উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ বাঙালি বিদ্বেষে প্রচ্ছন্ন উস্কানি দিচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্ত হয়েছে ডি-ভোটার (ডাউটফুল ভোটার) তালিকায় নাম। অসম পুলিশের বর্ডার ব্রাঞ্চ বেছে বেছে সন্দেহজনক ভোটারদের চিহ্নিত করে বলে জানা গিয়েছে। রয়েছে প্রশাসনিক ত্রুটি। যাদের নাম হয়তো এনআরসি-তে রয়েছে তাদের আবার চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ডি-ভোটার হিসেবে।
উপরি যুক্ত হয়েছিল আলফা নেতাদের হুমকি। প্রকাশ্যে উগ্রপন্থী এই সংগঠনের নেতারা ঘোষণা করেছিল, বেছে বেছে বাঙালি নিধন করা হবে অসমে। হলোও তাই। কার্যত গণহত্যা।
এই ঘটনার পর যে বিজেপি বিরোধীতার সুরকে মমতা আরও কয়েক গুণ বাড়াবেন এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। পর্যবেক্ষকমহলের মতে বাঙালির ভাবাবেগকে পুঁজি করেই বাংলার মাটিতে বিজেপি-কে ঠেকাতে রণকৌশল সাজাবেন চার দশকের পোড় খাওয়া রাজনীতিক। কিন্তু বৃহস্পতিবার অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঘুম ভাঙার আগেই, গর্জে উঠলেন দিদি। পর্যবেক্ষকদের মতে, আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে সামনের সারিতেই ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের বাসিন্দা।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন