
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 3 March 2025 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS) পর এক মাসও অতিক্রান্ত হয়নি। তারই মধ্যে রাজ্যের শিল্পায়নে গতি আনতে বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যস্তরে গঠিত হল শিল্প সমন্বয় কমিটি (State level Industry Synergy Committee)। সেই সঙ্গে উদ্বোধন হল নয়া পোর্টালেরও।
এই পোর্টালের সাহায্যে রাজ্যের শিল্পায়নের জন্য সরকারের কোথায় কত জমি রয়েছে, কে বা কারা সেখানে শিল্প স্থাপনের জন্য আবেদন করছেন, প্রকল্পের কাজ কতদূর এগোল-সহ শিল্প সংক্রান্ত সব তথ্যই জানা যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "মেধা থেকে দক্ষতা, বাংলা সবদিক থেকে এগিয়ে। অথচ গড়িমসির জন্য অনেক সময় অনেক প্রজেক্ট দেরি হয়ে যায়। এ জিনিস আর সহ্য করা হবে না। কোথায় আটকে রয়েছে,, কী কারণ আটকে রয়েছে এগুলো দেখতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে হবে। গড়িমসির জন্য বাংলার ভবিষ্যত যেন নষ্ট না হয়। সেজন্যই এই পোর্টাল।"
প্রশাসনের দাবি, পোর্টালের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির নজরদারি করবে শিল্প সমন্বয় কমিটি (State level Industry Synergy Committee)। এর ফলে শিল্প সংক্রান্ত তথ্য জানা আরও সহজ হবে। সমস্যার সমাধানও হবে দ্রুত। পোর্টালের মাধ্যমেই নেওয়া হবে সাজেশন, ওপিনিয়নও। উদ্দেশ্য একটাই, সরকারি কাজে গতি আনা।
সেজন্য এদিনের মঞ্চ থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্তাদের উদ্দেশে নয়া ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "সব ডিপার্টমেন্টে জমি পড়ে রয়েছে। অনেকে খোঁজও রাখেন না। প্রত্যেক বিভাগকে বলব, তাদের কোথায় কত জমি পড়ে রয়েছে, যেগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের জানাতে হবে হবে। যে না পাঠাবেন তাঁর সেই দফতরে থাকার অধিকার নেই।"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক সময় জমি একটা বড় অন্তরায় হতে দাঁড়ায়। সঙ্গে ফায়ার, এনভাইরনমেন্টের অনুমতিও ফ্য়াক্টর। তাই এই তিনটে বিভাগকে স্পেশাল কেয়ার নিতে বলব। সেজন্যই সেন্ট্রাল প্লাটফর্মের জন্য এই পোর্টাল। এর মাধ্যমে প্রতিটি দফতরের মধ্যে সমন্বয়ও রাখা যাবে। এখানে কোনও খামতি, গাফিলতি, অন্য পাওয়ার শুনব না।
কাজে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যস্তরে গঠিত শিল্প সংক্রান্ত কমিটকে নিয়ে চারদিন অন্তর বৈঠকে বসবেন মুখ্যসচিব। একইভাবে জেলায় জেলাশাসকদের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "শুধুই কলকাতা কেন্দ্রিক শিল্প হলে তো হবে না, জেলাতেও আমাদের প্রচুর জমি রয়েছে। আইটি টু ক্ষুদ্র শিল্প- সব ক্ষেত্রেই বাংলা স্কিল এবং মেধায় সেরা। মনে রাখবেন, একটা বড় কারখানা হলে ১ থেকে দেড় হাজার চাকরি হতে পারে। কিন্তু ছোট ছোট কারখানা হলে লক্ষ লক্ষ চাকরি হতে পারে।"
হঠাৎ এই পোর্টালের প্রয়োজন কেন হল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে ৬টা ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে, এটা গেম চেঞ্জার, রাজ্যের চেহারায় বদলে যাবে। তাই শিল্প স্থাপনে জমির অন্তরায় সমাধানে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেজন্যই এই পোর্টাল। একটা পরিবেশ তৈরি করা। যাতে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক থেকে আরম্ভ করে সবকিছু এক ছাতার তলায় রাখা যায়।
এবারের বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন থেকে বাংলায় শিল্প স্থাপনে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে। এর আগে ১৯ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছিল। প্রশাসনের দাবি, যার মধ্যে ১৩ লক্ষ টাকার প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। বাকিটাও প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বিজিবিএসে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসা শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে কাদের শিল্পায়ন স্থাপনের কাজের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে বিজিবিএস নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করেছিলেন। শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও তোলা হয়েছিল। এদিন সেই তালিকায় তুলে ধরে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান প্রকারন্তের বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিলেন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।