
শেষ আপডেট: 2 April 2024 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: মতুয়াদের বারুণী মেলা নিয়ে ফের সরগরম ঠাকুরবাড়ির রাজনীতি। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে ১৪৪ ধারা জারি করা হল। চলতি মাসের ৬ এপ্রিল থেকে মতুয়াদের ধর্মীয় বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে।
৭০ বছর ধরে বারুনী মেলা হয়ে আসছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুর সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, মতুয়াদের ধর্মীয় মেলা বন্ধ করার জন্য মমতা ঠাকুর ১৪৪ ধারা জারি করার আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় মেলায় যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে সে নিয়েও চক্রান্ত করে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। শান্তনু বলেন, "যতই ১৪৪ ধারা জারি হোক না কেন মেলা হবেই আর ভক্তদের সমাগম ও হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।"
তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর অবশ্য বলেন, "মেলাতে অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। এতে মতুয়া মেলাতে আসা ভক্তদের কোনও অসুবিধা হবে না।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যে কোনও মেলাতে একটিই লাইসেন্স থাকে। এখানে দুটি লাইসেন্স কী করে এল?" লাইসেন্স দেখে মেলার দোকানের বিল কাটারও পরামর্শ দিয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর।
গত ৪ মার্চ সাংবাদিক বৈঠক করে মমতাবালা ঠাকুর অভিযোগ করেছিলেন, মতুয়া মহাসঙ্ঘের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে তুলেছেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। শান্তনু ঠাকুরও পাল্টা নিশানা করেন মমতাবালাকে। মমতাবালার দাবি ছিল, ভুয়ো মহাসঙ্ঘ চালাচ্ছেন শান্তনু ঠাকুর। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য, যিনি অভিযোগ করছেন তাঁর সংগঠনটাই ভুয়ো। মতুয়া মহাসঙ্ঘ পরিচালনার দায়িত্ব পরিবারের পুত্রবধুরা পান না বলেই দাবি তাঁর। এই প্রেক্ষিতে মামলা করার অনুমতি চেয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের একক বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শান্তনু। আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়ের আর্জির প্রেক্ষিতে মামলার অনুমতি দেন বিচারপতি। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। তারই মধ্যে বারুণী মেলা নিয়ে ফের তেতে উঠল ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল।