
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 6 January 2025 18:11
রফিকুল জামাদার, গঙ্গাসাগর
সীমানা ভুলে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া বাংলার ৯৫ জন শ্রমিকের ওপর সেদেশের জেলে ভয়ঙ্কর অত্যাচার হয়েছে। কারও অভিযোগ নয়, সোমবার গঙ্গাসাগরে গিয়ে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিষয়টি 'আবিষ্কার' করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মৎস্যজীবীদের কয়েকজন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওরা প্রথমে বলতে চাইনি। চাপ দিতে ওরা জানাল, নিয়ে গিয়ে হাত দুটো দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তাদের মোটা লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। কোমর থেকে পা পর্যন্ত চোট, জামাকাপড় পডে় আছে বলে দেখে বোঝা যাচ্ছিল না, খেয়াল করেছিলাম বলে বুঝতে পেরেছি।"
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলাশাসককে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওদের ভাল করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। কোনও সমস্যা যেন না হয়।
দু'মাস আগে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল ৬টি ভারতীয় ট্রলার। তখন ওই ৯৫ জন মৎস্যজীবী বাংলাদেশের জল সীমায় ঢুকে পড়েন। তারপরই বাংলাদেশের উপকূল রক্ষা বাহিনী তাঁদের গ্রেফতার করে। এর পরপরই মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠন প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। মৎস্যজীবীদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)।
এদিন সেই মৎস্যজীবীদের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। জলে পড়ে গিয়ে মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও করেন। এছাড়াও, প্রত্যেক মৎস্যজীবীর পরিবারের হাতে ১০ হাজার টাকাও তুলে দেন তিনি।
সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্র। একে অপরকে ভালবাসি। কিন্তু পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন আমাদের মংস্যজীবীরা। তারা সীমানা ভুলে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল। ওদের অবস্থা দেখে চোখে জল এসে গিয়েছিল।"
কীভাবে হারিয়ে যাওয়া মৎস্যজীবীদের খোঁজ পেলেন, তাও জানান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আগে মৎস্যজীবীরা হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে কেউ কোনও খবর রাখত না। আমরা সরকারে আসার পরে একটা আইডি কার্ড দিই। মৎস্যজীবী কার্ড। যাতে কোনও অঘটন ঘটলে বা হারিয়ে গেলে, কে কোথায় আছে, সেটা যাতে ট্রেস করা যায়।"
মমতা আরও বলেন, "প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, যে এরা বাংলাদেশের সীমানায় যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। আমরা যোগাযোগ করার পরে জানতে পারি, ওদের গ্রেফতার করা হয়েছে।"
এদিন মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, "এরপর আমাদের সীমানার বাইরে যাবেন না। মাছ উঠলে উঠবে না উঠলে না উঠবে। জীবন বেঁচে থাকলে অনেক মাছ পাবেন"