
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 30 April 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Rituraj Hotel fire, Kolkata) জেরে মৃত হয়েছে ১৪ জনের। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গত সোমবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সকালে সোশ্যাল মাধ্যমে তিনি ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। আহতদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জানিয়েছেন, 'সারা রাত উদ্ধারকাজের দিকে নজর রেখেছিলাম। ভিতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ জমা ছিল। গোটা ঘটনার তদন্ত হবে।'
পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধেয় অগ্নিকাণ্ডের পরই আনন্দ পাসোয়ান নামে এক জন আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হোটেলের রুম থেকে পরে আরও ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪। এদের মধ্যে ২ জন শিশু, একজন মহিলা এবং ১১ জন পুরুষ। এদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
My heart goes out to the victims of the fire incident that took place at a private hotel (Rituraj) in Burra Bazar area.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) April 30, 2025
I monitored the rescue and fire fight operations throughout the night and mobilised maximal fire brigade services in the area. 14 died eventually in total…
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা দমকল ও পুলিশ খতিয়ে দেখবে। এফআইআর হবে। ঘটনার তদন্ত হবে।” বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে ফরেনসিক দল। কীভাবে অগ্নিকাণ্ড তা খতিয়ে দেখবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলও (SIT)। ঘটনার পর থেকেই পলাতক হোটেলের মালিক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
আচমকা আগুনে হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। আতঙ্কিত মানুষজন মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। আতঙ্কে অনেকে ছাদেও উঠে যান। পরে দমকল বাহিনী হাইট্রোলিক ল্যাডার এনে তাঁদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দমকল বাহিনী পৌঁছলেও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে হোটেলের ভেতর যেন অগ্নিপুরী। দীর্ঘক্ষণ হোটেলের ঘরে দমবন্ধ অবস্থায় আটকে থাকার জেরেই মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের কলকাতা মেডিক্যাল, এনআরএস এবং আরজি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে হোটেলের রুমগুলিতে ঢোকেন দমকলের কর্মীরা। এরপরই বিভিন্ন ফ্লোরের ঘর থেকে একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহগুলি আজ ময়নাতদন্ত হয়েছে। গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। একই সঙ্গে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।