
শেষ আপডেট: 7 October 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিস্তার হড়পা বানের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতেই ক্রমেই প্রকট হচ্ছে সিকিম, কালিম্পঙের বিধস্ত চেহারা। প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। পাহাড় থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক দেহ। পুরো ঘটনায় উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর নির্দেশে বুধবার থেকেই পাহাড়ে রয়েছেন সেচ মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার দুপুরে কালিম্পঙ যাচ্ছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার আর এক সদস্য অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর, দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে কালিম্পঙের উদ্দেশে রওনা দেবেন মন্ত্রী অরূপ। জানা গিয়েছে, তিনি এলাকায় পৌঁছে হড়পা বানে বিধ্বস্ত মানুষজনের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন। প্রসঙ্গত, আগেই পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১৯টি দেহ। এদিন নতুন করে তিস্তার জলে বাংলায় ভেসে এল আরও ২৬টি মৃতদেহ। এঁদের মধ্যে ৭ জওয়ানও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাহাড়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবারই নবান্নে এসেছিলেন জিটিএ প্রধান অনিত থাপা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, তিস্তার হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। ওই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পাহাড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
স্পেন থেকে ফেরার পর ফের পায়ের চোট বাড়ে মুখ্যমন্ত্রীর। এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি রয়েছেন বাড়িতে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, নেহাতই অসুস্থ, তা না হলে মুখ্যমন্ত্রী এতক্ষণে পাহাড়ে পৌঁছে যেতেন। সূত্রের খবর, দ্রুত পাহাড়ের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের বিষয়ে কী কী করা যায়, সেই বিষয়ে সরোজমিনে পরিদর্শনের জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পাহাড়ে যাচ্ছেন অরূপ।
উত্তর সিকিমের চুংথাংয়ে দক্ষিণ লোনাক হ্রদের বাঁধ ভাঙায় তিস্তায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল অস্বাভাবিক হারে। সেই সঙ্গে বুধবার ভোরের মেঘভাঙা বৃষ্টি। জল ধরে রাখতে না পেরে তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়। যা ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে সিকিমের সঙ্গে দেশের মূল সংযোগরক্ষাকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। পাহাড়ে তিস্তার জলে ভেসে গেছে বেশকিছু বাড়িও। প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ।
এদিকে পাহাড়ের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পরই কেরল থেকে দিল্লি হয়ে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে পৌঁছন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবারও তিনি রয়েছেন উত্তরবঙ্গে। এমন আবহে ফের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের আরও এক মন্ত্রীর পাহাড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।