
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 31 December 2024 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই সন্দেশখালির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছিলেন, 'টাকা বিলিয়ে বাংলার ভোট কেনা যায় না। টাকার বিনিময়ে সন্দেশখালিকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছিল তবু সন্দেশখালির মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে।'
এবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বছরভর বাংলার বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে কোলাজ তৈরি করে ১২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ থেকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি ২০২৫কে স্বাগত জানিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'মা মাটি আর মানুষ নিয়ে বাংলা আছে ভাল, তৃণমূলের হাতেই থাকুক নতুন দিনের আলো।'
ভিডিওর সূচনা হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা দিয়ে। ব্যাক স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর, 'গঙ্গাসাগর মেলা আমাদের গর্ব এবং পৃথিবীর সব থেকে বড় মেলা এটা। প্রতিবারই প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ আসে এখানে।'
কলকাতা বইমেলা থেকে শুরু করে সম্প্রীতির মিছিল, সবই উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "বাংলা আজ যা ভাবে, বিশ্বে আগামীকাল তা ভাবে। আমরা হারব না, আমরা জিতবই।'
কথা দিলে তিনি যে কথা রক্ষা করতেও জানেন, ভিডিওতে সেটাও স্পষ্ট করা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনায় কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনের ঢেউ দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ফেব্রুয়ারিতে রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকেই মমতা ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকেই বকেয়া মজুরি মেটানো হবে।
লোকসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী সেই টাকা তো মিটিয়েছেন, উপরন্তু ডিসেম্বরে আবাস যোজনায় ১২ লক্ষ পরিবারকে ঘর তৈরির প্রথম কিস্তির টাকাও দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও যে স্রেফ কথা কথা ছিল না, তাও স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "বাংলায় একমাত্র জায়গা যেখানে মহিলারা সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত।"
দেশজুড়ে ইন্ডিয়া জোট হলেও লোকসভা ভোটে বাংলায় একা লড়ে ২২ থেকে ২৯ এ পৌঁছেছে তৃণমূল। মমতার কথায়, 'নিজের জীবন দেওয়া ছাড়া বাকিটা কী রেখেছি। মানুষের ভালবাসা আর স্রেফ মনের জোরেই এই লড়াইটা লড়তে পারেছি।' ভিডিওয় একাধিকবার উঠে এসেছে, তৃণমূলের খেলা হবে জনপ্রিয় স্লোগানও।
আরজিকর ইস্যুতে বাংলা যখন উত্তাল তখন ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিধানসভায় বিল পাশ করিয়ে সেই বিল রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন। এমনকি 'ইগো' দূরে সরিয়ে রেখে জুনিয়র ডাক্তারদের মঞ্চেও একাধিকবার পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, "মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, দিদি হিসেবে এসেছি।"
উপ নির্বাচন থেকে শুরু করে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, পুরীর আদলে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরির উদ্যোগ থেকে ক্রিসমাস উৎসব, ভিডিওতে এভাবেই বছরভরের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।