
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 November 2024 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম না করে বাংলাদেশের হিংসার নিন্দায় সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যেকোনও ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচারের ঘটনায় নিন্দনীয়। অন্য দেশেও (বাংলাদেশের নাম না করেই) যদি কোনও ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচার করা হয় তাহলে আমরা সেটাকেও সমর্থন করি না।"
বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের পড়শি দেশ। ওপার বাংলার সঙ্গে এপার বাংলার হিন্দুদের সংস্কৃতি ও মননের আত্মীয়তা থাকায় সেটাই স্বাভাবিক। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যা অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে ও সমাজমাধ্যমে যে সব ছবি দেখা যাচ্ছে, তাতে নবান্নের উৎকন্ঠাও বাড়ছে। কারণ, যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে তাতে এপার বাংলায় নতুন করে শরণার্থী সমস্যা মাথা তোলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাজ্য যে নাক গলাবে না, তাও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিষয়টি দিল্লির। তাই এ ব্যাপারে রাজ্য কোনও মন্তব্য করবে না।" মমতা এও বলেন, "আমার সরকারের পলিসি হল অন্য দেশের ব্যাপার হলে আমরা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকব।"
প্রসঙ্গত, এ ব্যাপারে বুধবারই দিল্লি থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে চলতি পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান কী হবে তা দিল্লির সরকার স্থির করবে। মানুষ তাদের সেজন্য জনাদেশ দিয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক বিষয়। সুতরাং এ ব্যাপারে নয়াদিল্লি তথা বিদেশ মন্ত্রক যে অবস্থান নেবে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সেটাই তৃণমূলের অবস্থান হবে। এদিন একই কথা বলেন মমতাও।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ইসকন প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বস্তুত, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানোয় সম্প্রতি সেদেশের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করেছে ইউনুস সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলার অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই বাংলাদেশের হিংসার নিন্দায় সরব হয়েছে সব মহল।