দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দেশের বাণিজ্য রাজধানীর শিল্পপতি ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারে বারে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হল, আগামী লোকসভা নির্বাচনে তিনিই কি বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে চান? দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?
এই জাতীয় সব প্রশ্নের জবাবেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চেনা উত্তরই দিয়েছেন। বলেছেন কে নেতৃত্ব দেবেন সেটা পরের কথা। আগে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট তৈরি হোক।
মুখ্যমন্ত্রীর এবারের মুম্বই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুটি। বাংলার শিল্প সম্ভাবনা বাণিজ্য নগরীর শিল্প কর্তাদের সামনে ফের তুলে ধরা। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী জোটের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে মহারাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল শিবসেনা এবং এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা। দিনের শেষে দেখা গেল শিল্পচর্চা ছাপিয়ে গিয়েছে রাজনীতির আলোচনায়। বাণিজ্যনগরীর শিল্প কর্তা থেকে বলিউড ব্যক্তিত্ব, লেখক থেকে সমাজকর্মী, সকলেই জানতে আগ্রহী ছিলেন, দিদি কি দেশের হাল ধরতে চাইছেন?
গত বিধানসভা নির্বাচনের পর জাতীয় রাজনীতি সমস্ত অঙ্গনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদে পদে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সর্বত্রই তিনি চেনা জবাবই দিচ্ছেন। বলছেন, আগে জোট। তারপর জোটের নেতৃত্ব।
বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠকে লেখিকা শোভা দে যেমন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জানতে চান, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে? মমতা সহাস্যে জবাব দেন, আপনিও হতে পারেন। কী অসুবিধা!
শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি নিরঞ্জন হিরানান্দনি। তাঁর প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়া আমার জীবনের লক্ষ্য নয়। আমি একজন সাধারণ কর্মী। আমি চাইছি বিজেপির অপশাসনের অবসান।
বুধবার মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'ইউপিএ আর নেই' বলে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছেন। আজ কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যের জবাব দেবে বলে দলীয় সূত্রের খবর। মমতা আচমকা ওই মন্তব্য করলেও বুধবার দিনভর মুম্বইয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন বিজেপি বিরোধিতায় তিনি কতটা আন্তরিক। তৃণমূল নেত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, কংগ্রেসের সমালোচনাও তাঁর বিজেপি বিরোধী লড়াইয়েরই অংশ।
তৃণমূল নেত্রীর কথায়, কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। সনিয়া গান্ধীর পার্টি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কতটা আন্তরিক সেটাই স্পষ্ট নয়। কিন্তু তিনি যে হৃদয় দিয়ে বিজেপিকে আটকাতে চাইছেন মুম্বইয়ের শিল্পপতি এবং বিশিষ্টজনদের কাছে তা বারে বারে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আয়কর, সিবিআই হানার প্রসঙ্গ। আবার একই সঙ্গে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ, ইউএপিএ-র মত আইনগুলি ব্যবহার নিয়ে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ আটকাতে কঠোর আইন অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেগুলি সাধারণ মানুষ এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার হরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার ভয়ঙ্কর প্রবণতা। এ জিনিস বন্ধ করতে হবে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গোড়া থেকেই অভিযোগ করে আসছেন অতীতের তুলনায় এই সরকার অনেক বেশি অগণতান্ত্রিক উপায়ে চলছে। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা এজেন্সি, আয়কর দফতর ইত্যাদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং শিল্পমহলকে চাপে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার মুম্বইয়ের শিল্পমহলের সঙ্গে আলোচনাতেও সেই প্রসঙ্গ ওঠে। এ নিয়ে শিল্পমহলের অসন্তোষ বারে বারে প্রকাশ্যে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই সুযোগে শিল্প কর্তাদের মন জয় করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। এই ব্যাপারে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়ে বলেন, বিজেপি সরকার পরিবর্তন হলে এই ধরনের অপকর্মেরও অবসান হবে।