
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 27 February 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় ২৫ মাস জেলবন্দি ছিলেন। গত বছরের পুজোর মুখে জামিনে মুক্তির পর জেলায় ফেরেন অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট ( Mamata Banerjee)। মাস কয়েক পরেই জেলায় দলের কর্তৃত্ব ফিরেছে তাঁর হাতে। গত নভেম্বরে কোর কমিটির নেতারাও কেষ্টকে জেলার ক্যাপ্টেন হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এবার নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বোঝালেন, বীরভূমে কেষ্টতেই তাঁর ১৬ আনা ভরসা এখনও অটুট।
ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির কারচুপি ঠেকাতে তৃণমূলের পাখির চোখ, ভোটার লিস্ট। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে তা স্পষ্ট করে এজন্য রাজ্যের তরফে একটি কমিটিও গড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রতিটি জেলাকে ৩ দিন অন্তর রিপোর্ট পাঠাতে হবে এই কমিটিতে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই কমিটি থেকে বীরভূ্মকে দূরে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এই সংক্রান্ত কমিটির কথা বলতে গিয়ে মমতা বলেন, "বীরভূমকে রাখিনি, কারণ ওদের কোর কমিটি রয়েছে। ওরা ওদের মতো করে করবে।"
এরপরই অনুব্রত মণ্ডলের উদ্দেশে মমতা বলেন, "কেষ্ট কাউকে কিন্তু বাদ দেওয়া যাবে না। কাজলকেও নিতে হবে। আশিসদা আর শতাব্দীকে ডেকে নেবে।"
মাথা নেড়ে সম্মতি জানান অনুব্রত। যা দেখে দলের একাংশের অভিমত, কেষ্টতেই ভরসা রাখছেন দলনেত্রী। এদিকে মাঝেমধ্যেই জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের অনুগামীদের সঙ্গে অনুব্রতর অনুগামীদের সংঘর্ষের অভিযোগও ওঠে। সে কারণেই দলনেত্রী এ বিষয়ে কেষ্টকে সতর্কও করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দলে কেমন কর্মী প্রয়োজন তা বোঝাতে গিয়ে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেন, "আমরা দিনে কী করছি, রাতে কী করছি মানুষও কিন্তু দেখছে। আমার সেই কর্মীটির প্রতি দয়ামায়া আছে, যে বুক দিয়ে জোড়াফুলকে আগলে রাখে।"
গোষ্ঠী রাজনীতি প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা শুনিয়েছেন দলনেত্রী। মমতা বলেন, "আমি ফেসবুক, টুইটার সব দেখি। অনেকে বলেন আমি তৃণমূল করি না, প্রতীক চিনি না, আমি অমুক দাদার রাজনীতি করি। এসব আমি নজর করি। প্রতীক না থাকলে আপনি কাউন্সিলর, বিধায়ক, সাংসদ কিছুই হতে পারতেন না। আপনার যদি কেউ নেতা হয় তাহলে সেটা হল জোড়াফুল।"