
শেষ আপডেট: 2 February 2024 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যাগ (CAG) হঠাৎই যে সওয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা খরচের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার খোঁজ অনেকের কাছেই ছিল না। তবে নবান্ন ঘর পোড়া গরু। ক্যাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করে দিয়েছেন আমলারা। তাঁদের আশঙ্কা এই অছিলায় বাংলার বকেয়া পাওনা নিয়ে ফের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে পারে কেন্দ্র। শুক্রবার তাই ধর্না মঞ্চে সবার আগে এ ব্যাপারে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘স্ট্রং’ চিঠি দিয়েছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীই জানিয়েছেন, সম্প্রতি ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটরস জেনারেল) যে আর্থিক রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, ২০০২-০৩ আর্থিক বছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা খরচের কোনও ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তারা পায়নি।
বাংলায় সরকারি প্রকল্প খাতে কেন্দ্র ও রাজ্য যে অর্থবরাদ্দ করে তার কতটা খরচ হল, কীভাবে খরচ হল সেই হিসাব রাখতে হয়। তাকে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বলে। অনেক সময়ে দেখা যায়, আগের কিস্তির টাকা খরচের হিসাব তথা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট না পেলে পরের কিস্তির টাকা দেয় না কেন্দ্র। অতীতে বাম জমানার এটা বড় রোগ ছিল। বামেরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলত, আর কেন্দ্র বলত অসীম দাশগুপ্তরা এক খাতের টাকা অন্য খাতে খরচ করছেন, ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না। তাই পরের কিস্তির টাকা রিলিজ হয়নি।
মমতা এদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০২-০৩ সালে তিনি তো মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন না। বামেরা কী করে গেছেন, তার দেয় কেন তিনি দেবেন? তা ছাড়া মমতার দাবি, কেন্দ্রের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে রাজ্য সরকার তাঁর মেয়াদে যে সব বরাদ্দ পেয়েছে, তার সব ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট ইতিমধ্যে পেশ করা হয়ে গেছে। নইলে পরের পর কিস্তির টাকা এল কী করে!
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ক্যাগ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্ট দিল কী করে? এই সব রিপোর্ট হাতে করে তো এবার কুৎসা প্রচার শুরু হয়ে যাবে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সমস্ত ইউটিলাইজেশ সার্টিফিকেট তিনি তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) সচিবালয়ের পাঠিয়ে দেবেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলার বকেয়া পাওনার প্রসঙ্গও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখ এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে কেন্দ্র-রাজ্য অফিসার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলার বকেয়া ব্যাপারটা কতটা গুরুতর তা প্রধানমন্ত্রী বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করুন। মিথ্যা কারণ দেখিয়ে রাজ্যকে এভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
প্রসঙ্গত, সোমবার ফের দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৬ তারিখ নির্বাচন কমিশনে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এখন দেখার দিল্লি গিয়ে বকেয়া পাওনা নিয়ে ফের দৌত্য চালান কিনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।