
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 August 2024 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের খবর পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি অসাবধানে হাতও কেটে গিয়েছে তাঁর। অনেকটা কেটে গলগল করে রক্তও বেরিয়েছে। আজ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মারা যাওয়ার পরে তাঁকে শেষ দেখার পরে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে এ কথাই জানালেন মমতা।
তিনি এদিন জানান, এই পরিস্থিতিতে তাঁর কলকাতায় থাকা দরকার ছিল, বুদ্ধবাবুর শেষযাত্রার তদারকি তিনি নিজেই করতেন। কিন্তু উপায় নেই, কারণ ঝাড়গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠান রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, 'আজ আমায় ঝাড়গ্রাম যেতেই হবে, বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান ঠিক করা আছে। অন্য প্রোগ্রাম হলে ক্যানসেলই করে দিতাম। কিন্তু এটা সেন্টিমেন্টের বিষয়।'
এর পরেই হাত কেটে ফেলার কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'আজ বুদ্ধবাবুর খবরটা শুনেই আমি এমন হয়ে গেলাম, হাতটা ঘষে গিয়ে গলগল করে রক্ত বেরিয়েছে। কীরকম একটা লাগছিল আমার। আমি এখন বাড়ি গিয়ে, কিছু পরে ঝাড়গ্রাম বেরোব। আমি সবাইকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি, বুদ্ধবাবুর শেষযাত্রায় যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সবরকম ব্যবস্থা যেন করা হয়।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমার এবং বুদ্ধবাবুর ব্যক্তিগত অনেক কথা আছে, আজ সেসব বলার দিন নয়। আজ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দিন। দল হারিয়েছে তাদের নেতাকে। আমি অন্য দল করলেও ওঁর দলের প্রতি সমবেদনা রয়েছে।'
পুরনো স্মৃতি হাতড়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'বুদ্ধবাবুর সঙ্গে আমার সিঙ্গুর আন্দোলনের পরে দেখা হয়েছিল। গোপাল গান্ধী তখন রাজ্যপাল, উনিও ছিলেন। অন্যরকম পরিবেশে কথাবার্তা চলছিল। গোপালবাবু জিজ্ঞেস করলেন, বলুন তো, 'ভরা থাক স্মৃতিসুধায়' গানটার অন্তরাটা কী? বুদ্ধবাবুও ছিলেন, আমিও ছিলাম সেখানে। আমি উত্তর দিলাম, 'যে পথে যেতে হবে, সে পথে তুমি একা, নয়নে আঁধার রবে, ধেয়ানে আলোকরেখা।' এই ঘটনাগুলি আমার মনে পড়ে।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোলেন নয়ের দশকের অশান্ত পরিস্থিতির কথাও। তাঁর কথায়, '৯২ সালে যখন দাঙ্গা হয়, আমি ছুটে গিয়েছিলাম মহাকরণে। আমার কিছু দরকার আছে কিনা, কোনও সাহায্য চাই কিনা, আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন বুদ্ধবাবু। মতাদর্শগত বিরোধ যাই থাকুক, দেশে বা রাজ্যে যখনই কোনও ঘটনা ঘটেছে, আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে শান্তিরক্ষা করার ব্যাপারে আমি সবসময় এগিয়ে গেছি। আপনারাও শান্তির সঙ্গে শোকপালন করুন।'