
শেষ আপডেট: 24 April 2024 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের নামী রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলির মধ্যে হীরানন্দানি গোষ্ঠী অগ্রগণ্য। তাঁদের মূল ব্যবসা ও বিনিয়োগ রয়েছে মুম্বই ও মহারাষ্ট্রে। তারপর বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও দুবাইতে ব্যবসা ছড়িয়েছে।
বাংলায় রিয়েল এস্টেট শিল্প গত পনেরো বছর ধরেই ভাল করছে। কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাট উপনগরী তৈরি হয়েছে। সেখানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগের অপার সুযোগ রয়েছে। ইউনিটেক, টাটা গোষ্ঠীও সেখানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। পিয়ারলেস গোষ্ঠীও রাজারহাটে নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে প্রশ্ন ছিল, মুম্বইয়ের বিখ্যাত হীরানন্দানি গোষ্ঠীর তাহলে আসতে অসুবিধা কোথায়? ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ টানার ব্যাপারে জোর দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা ছিল তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৭ সালে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে দুবাই স্থিত মুম্বইয়ের রিয়েল এস্টেট শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রর আমন্ত্রণ পেয়ে দর্শন হীরানন্দানি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে সেই সম্মেলনেই প্রথমবার পরিচয় দর্শন হীরানন্দানির। ফোন নম্বর বিনিময় হয়। দর্শন জানিয়েছেন, তার পর থেকে প্রায়ই কথা হত মহুয়ার সঙ্গে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হত। বেশ কয়েকবার মহুয়াকে তিনি আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। এর পর এমন একটা সময় আসে যে মহুয়ার সঙ্গে তাঁর রোজ কথা হত। দর্শনের কথায়, মহুয়া ব্যক্তিগত সম্পর্কে জোর খাটাতে পারেন। তাঁর কোনও কিছু চাই মানে তক্ষুণি চাই। মহুয়া তাঁর কাছে আবদার, বায়নাক্কা করতেন বলেও দাবি দর্শনের।
মহুয়া-দর্শনের যোগাযোগ ইত্যাদি নিয়ে এখন বিতর্কের মেঘ ঘনিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মহুয়া কি কখনও দর্শন হীরানন্দানিকে বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য আবদার করেছেন। বা তার উপর জোর খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন?
হীরানন্দানি গোষ্ঠীর কোনও বিনিয়োগ বা লগ্নি বাংলায় আসেনি। ঘটনা হল, তারা এখন আর শুধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নেই। লজিটিক্স পার্ক, গ্যাস টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ, ডেটা সেন্টার, লজিস্টিক্স পার্ক ইত্যাদির ব্যবসাতেও রয়েছেন। বাংলায় এই সব ব্যবসারই সুযোগ রয়েছে। এমনকি আদানি শিল্পগোষ্ঠী জানিয়েছে, বাংলায় ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে তারা বিপুল বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
হীরানন্দানিরা বাংলায় বিনিয়োগ না করলেও দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট গোষ্ঠীকে লুলুকে রাজারহাটে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তারা।