
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 May 2024 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমফানের স্মৃতি এখনই ভোলেনি বঙ্গবাসী। ২০২০ সালের সেই তাণ্ডব আবার ২০২৪ সালে ফিরিয়ে আনবে ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল', এমন পূর্বাভাস ছিল। রবিবার রাতে তার ল্যান্ডফল হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত দুর্যোগ চলছে। একাধিক মৃত্যুর খবরও মিলেছে ইতিমধ্যে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষকে নিশ্চিন্ত করতে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, তিনি যা যা করার তাই করছেন দুর্যোগ সামাল দিতে।
লোকসভা নির্বাচন চলছে। আগামী শনিবার শেষ দফার ভোট। তার আগে এই ঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যের একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে জানিয়েছেন, ''নির্বাচনী বন্দোবস্তের ব্যস্ততা সত্ত্বেও সর্বস্তরে আমাদের প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় এবার প্রস্তুত ছিল। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে আমার রাজ্যের সম্পূর্ণ সচিবালয়, জেলা প্রশাসন থেকে ব্লক প্রশাসন – দুর্যোগের মোকাবিলায় সকলে সংহতভাবে সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। '' একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ''আমি বিশ্বাস রাখি, সকলের সহযোগিতায় এই ঝড়ও আমরা কাটিয়ে উঠব। আপনারা চিন্তিত। আমরাও চিন্তিত। কিন্তু ভয় পাবেন না, চিন্তা করবেন না। পরিস্থিতির মোকাবিলায় যা যা করণীয়, আমরা সবটাই করবো।''
প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে এখন সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে 'রেমাল'। এই মুহূর্তে ঝড়টির গতিবেগ মাত্র ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আবহাওয়া দফতর মনে করছে, বিকেলের পর থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির বদল ঘটবে। কারণ সেই সময় থেকেই ঝড়টি আরও খানিকটা শক্তি কমিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং রাতের দিকে গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পূর্বে অগ্রসর হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও যথেষ্ট ক্ষতি করে দিয়েছে 'রেমাল'। মমতা বলছেন, 'সাইক্লোন ‘রেমালে’র প্রভাবে আমাদের রাজ্যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হল ও হচ্ছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এবং অবশ্যই রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় এবার জীবনহানি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।'' তবে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে তিনি আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণাও করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক রাজ্য, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে। প্রতিবছরই তাই আমাদের নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। এবারো সাইক্লোন ‘রেমালে’র প্রভাবে আমাদের রাজ্যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হল ও হচ্ছে। কিন্তু সবার উপরে মানুষের জীবন। সৌভাগ্যক্রমে এবং অবশ্যই রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় এবার…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 27, 2024
সোমবার প্রবল বৃষ্টির জন্য সারাদিন গেরুয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনায়। ভারী বৃষ্টির কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান এবং দুই মেদিনীপুরে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের কারণে একাধিক মৃত্যুর খবরও এসেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে। সোমবার রাত পর্যন্ত যে বৃষ্টি চলবে সেটাও মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক রাজ্য, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে। প্রতিবছরই তাই নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু খুব দ্রুত দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রশাসন এবং পুরসভা কাজ করছে বলে সকলকে আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাঁদের ফসল ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আইন-মোতাবেক প্রশাসন দেখে নেবে বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আচরণবিধি উঠে গেলে আরও গুরুত্ব দিয়ে গোটা বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।