
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 22 April 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ ঘিরে মুর্শিদাবাদে তুঙ্গে অশান্তি। এবার সেখানেই সরাসরি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর কলেজ মাঠে এক প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'ধুলিয়ানের দু’টি জায়গায় অশান্তি হয়েছে। এর নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। বহিরাগতরা কিছু স্থানীয় মানুষকে ব্যবহার করে গোলমাল বাধিয়েছে। আমরা সেই ষড়যন্ত্র সামনে আনবই।'
ওই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, তাঁদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অধীনে নতুন করে বাড়ি বানিয়ে দেবে সরকার। দোকানঘর যারা হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মে মাসের শুরুতেই মুর্শিদাবাদে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিজেই নেবেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এতদিন অভিযোগ করছিলেন, অশান্তির পরেও মমতা কেন মুর্শিদাবাদে যাননি। এবার মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, 'সঠিক সময়েই যাব। দুঃখজনক অশান্তির পিছনে যাঁরা রয়েছে, তাঁদের মুখোশ খুলে দেব।'
ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মুর্শিদাবাদে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে জাফরাবাদ, সুতি, জঙ্গিপুর, ফরাক্কা ও শমসেরগঞ্জে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, অশান্তির জেরে কয়েকটি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে জাফরাবাদে এক বাবা-ছেলের। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করাও সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছেন।
পূর্ব ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য এদিন মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরে ছিলেন। সেখানে প্রশাসনিক সভায় দাঁড়িয়ে শুধু সৌর প্রকল্প নিয়েই নয়, রাজ্যের নানা প্রসঙ্গে নিজের মতামত রাখেন তিনি। মুর্শিদাবাদের প্রসঙ্গ উঠতেই বলেন, 'বহিরাগতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আমাদের সরকার শান্তির পক্ষে। কেউ চায় না, মানুষ ঘরছাড়া হোক, প্রিয়জন হারাক।'
প্রসঙ্গত, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের এক সম্মেলনে আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া, যাঁদের বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে বাড়ি করে দেওয়ার পাশাপাশি, দোকানঘরের ক্ষতির হিসেব করতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ফের এই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কাদের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তার সমীক্ষা চলছে। আমি গিয়ে নিজে দেখব এবং ব্যবস্থা নেব। এটা আমার কর্তব্য এবং আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।'
এই সফরের ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান। এরপরেই মুর্শিদাবাদ সফর করবেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, অশান্তিপূর্ণ এলাকাকে শান্ত করার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।