
শেষ আপডেট: 16 October 2023 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু’বছর হতে চলল প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার একডালিয়া এভারগ্রিনের দুর্গা পুজো সুব্রতবাবুর পুজো বলে এখনও পরিচিত। সোমবার একডালিয়ার পুজো উদ্বোধন করতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “সুব্রতদাকে খুব মিস করি। এই হাসি মুখটা দেখি আর ভাবি কী করে সুব্রতদা এত তাড়াতাড়ি চলে গেল। প্রতি বছর আমাকে বলতেন, কীরে কবে ডেট দিবি (পুজো উদ্বোধনের)?”
মমতা আরও বলেন, “এই পুজো নিয়ে চারদিনই ওখানে আড্ডা মারতেন সুব্রতদা। একডালিয়া এভারগ্রিন ওঁর জীবন ছিল। সুব্রতদা যেখানেই থাকুন, আপনি ভাল থাকুন। পাড়ার সবাইকে অনুরোধ বউদিকে একটু দেখে রাখবেন। সুব্রতদা নেই বলে যেন বউদির কোনও অসুবিধা না হয়।”
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হার্টে স্টেন্ট বসানোর পর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এদিনও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “পুরো নেগলিজেন্স করে মানুষটাকে মেরে ফেলেছে।”
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথমবার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন, সে সময়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সুব্রত বলেছিলেন, এক জন যুব নেত্রী রয়েছেন, ওঁর বয়স কম। কিন্তু লড়াইয়ের মানসিকতা প্রবল। সুব্রতর পরামর্শে মমতার নাম কংগ্রেস ইলেকশন কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলেন প্রণব।
পরবর্তীকালে কলকাতা পুরসভা পরিচালনা ইত্যাদি নিয়ে সুব্রত-মমতা সম্পর্কে রৌদ্রছায়া এসেছে। কিন্তু বাংলায় পালা বদলের পর মন্ত্রিসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী মন্ত্রী ছিলেন সুব্রত। মমতার প্রথম জমানায় বাংলার গ্রামে সড়ক নির্মাণ ও পানীয় জল সরবরাহের কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য।