
শেষ আপডেট: 24 July 2024 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'একটু খাওয়াদাওয়া করতে বলুন তো। একদম খায় না। দেখুন চেহারা কী হয়েছে!' সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীকে এই ভাষাতেই শাসন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বুধবার, ২৪ জুলাই, উত্তমকুমারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে উপলক্ষে আয়োজিত 'মহানায়ক সম্মান' মঞ্চে আরও বহু শিল্পীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নচিকেতা। তাঁকে এবং একাধিক অভিনেতা-শিল্পীকে মহানায়ক সম্মান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই নচিকেতার চেহারা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী নচিকেতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, 'নচি! আমি ওকে বলি, নচি, নাচি নাচি! কারণ ওর ছন্দে গান নাচে। গানের সঙ্গে প্রাণের এত সুরধারা, প্লাবনের মতো শ্রাবণের ধারা বয়ে আনে। ওর গান আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা কিছুদিন আগে হারিয়েছি রশিদকে। রশিদ খুব ভাল গাইত, ওদের একটা টিম ছিল। নচিকেতাও দারুণ ক্লাসিক্যাল গায়। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে জয়ন্তী মঙ্গলা কালী-- সবরকম গানই গায়। আজও গাইবে। তাঁকে মহানায়ক সম্মান দিতে পেরে আমরা ধন্য। আমাদের অনেক ভালবাসা রইল নচিকেতার জন্য'
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী যত্নমেশানো শাসনের সুরে বলেন, 'একটু খাওয়াদাওয়া করতে বলুন তো। একদম খায় না। দেখুন চেহারা কী হয়েছে!' এর পরে তিনি বলেন, 'আমি ঠিকই খাই, আমি ইচ্ছে করে কমিয়েছি। কিন্তু ও এমন কমিয়েছে, তার কোনও তুলনাই চলে না। নিজেকে তো ভাল থাকতে হবে। আমি বলেছি, তুমি না খেলে বাড়িতে গিয়ে হানা দেব।'
নচিকেতা চক্রবর্তীর পাশাপাশি, অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের জন্যও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'শুভাশিসদার মতো শিল্পীকে সম্মান দিতে পেরে আমরা ধন্য। সেই পুরনো দিন থেকে বয়ে চলেছেন তিনি। শরীরে একটু নজর দিন। আমার মনে হচ্ছে, আপনার শরীরটা মনে হয় ভাল নেই।'
এদিন অনুষ্ঠান শুরুর সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিবার এই দিনটি উত্তমকুমারকে উৎসর্গ করি। তিনি চিরনায়ক, চিরদিন বেঁচে থাকবেন সকলের হদয়ে। আমরা তাঁকে দেখতে পাইনি, কিন্তু তাঁর ছবি মায়ের সঙ্গে দেখতে যেতাম থ্রি-ফোরে পড়তে। চলচ্চিত্রে বাংলা গান হতো এত ভাল ভাল, সেই ধারাটা আজও ধরে রেখেছি। মহানায়কের সেই গান যখন আজও গাওয়া হয়, মনে হয় বাংলার অস্তিত্ব আজও ধরে রাখা গেছে। বাংলার সঙ্গে উত্তমকুমারের গভীর সম্পর্ক। নিজের অস্তিত্ব কখনও অস্বীকার করতে নেই। সেই শিকড় খুঁজতে আমরা সবসময় চেষ্টা করি।'
এর পরেই শুরু হয় মহানায়ক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। তা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এতদিন কয়েকশো জনকে বিশেষ পুরস্কার দিয়েছি এই মঞ্চ থেকে। প্রায় সবাইকেই দেওয়া হয়ে গেছে, ২০১২ সাল থেকে। আর নতুন নামই খুঁজে পাওয়া যায় না।' তিনি উল্লেখ করেন, রচনা ও দেব এখনও আসতে পারেনি, সংসদ থেকে আসছেন তাঁরা।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, রুক্মিনী মৈত্র-- প্রমুখের হাতেও তুলে দেওয়া হয় সম্মান। চল্লিশ বছর ধরে টেলি ইন্ডাস্ট্রিতে অবদান রাখার জন্য প্রসেনজিৎকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রসেনজিৎ আমাদের গর্বের বাংলার উৎসারী। আমার ভালবাসা, শুভকামনা থাকবে ওর জন্য।'
এই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের তারিখ। ৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর। গৌতম ঘোষকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কো-চেয়ারম্যান।