.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2024 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাবনের আশঙ্কা থেকে মঙ্গলবারই ১০ জেলায় ১০ জন সচিবকে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নতুন করে ডিভিসি জল ছাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে জানতে পেরে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন মমতা নিজে।
পথে বানভাসী মানুষকে দেখে গাড়ি থামিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এভাবে জল ছেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির জন্য ডিভিসির বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভও প্রকাশ করেন। কথা ছিল, হাওড়া, হুগলি হয়ে এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরে রাত্রিবাস করে আগামীকাল ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছবেন। মোবাইলের সাহায্যে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির।
ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খবর আসে ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। দাসপুরে ভেঙে পড়েছে একটি দোতলা বাড়ি। কেশপুরে জলের তোড়ে ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। বিষয়টি জানতে পারার পরই এক মুহূর্ত দেরি না করে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে মেদিনীপুরের পরিবর্তে ডানদিকের রাস্তা ধরে ঘাটালে পৌঁছে যান মমতা।
প্রশাসনের স্থানীয় কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর নেন। কোথায় কত মানুষ জলবন্দি, কোন কোন এলাকার বাঁধ নতুন করে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, কতগুলি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে কিনা বিস্তারিত খোঁজ খবর নেন।
রাজ্যের অনান্য জেলার মতো পশ্চিম মেদিনীপুরের হালও যথেষ্ট খারাপ। কাঁসাই নদীর বাঁধ ভেঙে ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার একাধিক প্রান্ত। আর সেই জলের তোড়ে ভেসেই মৃত্যু হল কেশপুরের এক শিশুর। বুধবার সকালে শেখ গিয়াসুদ্দিন নামে ১০ বছর বয়সি ওই শিশুর দেহ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি দাসপুরে একটি দোতলা বাড়িও ভেঙে পড়েছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃ্ষ্টি এবং মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ছাড়া জলের ফলে দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরপরই বুধবার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।
হাওড়া, হুগলির একাধিক জায়গা পরিদর্শনের পর তিনি সোজা পৌঁছে যান পশ্চিম মেদিনীপুরে। এর আগে হুগলির পুরশুড়ায় দাঁড়িয়ে বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দায়ী করে মমতা বলেন, "আমি নিজে মঙ্গলবার ডিভিসির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। ডিভিসি আরও ২ লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখতে পারতো। তবু পরিকল্পিতভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবাল! এটা ম্যান মেড বন্যা।"