
শেষ আপডেট: 2 February 2024 20:43
বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় এর আগে রাজ্যের আইন মন্ত্রী মলয় ঘটকের বাড়িতে তল্লাশি করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাকে বেশ কয়েক বার দিল্লিতে ও কলকাতায় তলব করা হয়েছে, কিন্তু তিনি একবারও যাননি। একদিকে যেমন এই ছবিটা রয়েছে, তেমনই শাসক দলের মধ্যেই কানাঘুষো রয়েছে যে মলয় ঘটককে তো প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে শোনা যায় না। তাঁর টুইটার হ্যান্ডেল থেকে মাঝে মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয় ঠিকই। তবে সম্ভবত সেটা দলের সোশাল মিডিয়া টিমই করে দেয়।
শুক্রবার রেড রোডে ধর্নায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই দুই বর্ধমান জেলার সাংগঠনিক অবস্খা ও ভোট প্রস্তুতি নিয়ে পার্শ্ব বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা এদিন বেশ ভাল মুডে ছিলেন। জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময়ে হঠাৎই তিনি আইন মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলেন, মলয় তুমি তো বিজেপির বিরুদ্ধে কিছুই বলো না!
সূত্রের খবর, মলয় জবাবে কিছু বলতে যান। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, আরে ছাড়ো ছাড়ে! আমার সব জানা আছে। কে কোথায় কী বোঝাপড়া করছে।
মমতা এ কথা বলতেই বৈঠকে এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু হয়ে যায়। মলয় ঘটকের ভাই আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র। নাম অভিজিৎ ঘটক। তিনি আবার শ্রমিক নেতা। এদিনের বৈঠকে অভিজিতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
শুধু তাই নয়। পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও এদিন নেত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়েন। সূত্রের মতে, বৈঠকে মমতা বলেন, আপনি তো বাড়ি থেকেই বেরোন না। আবার প্রাক্তন জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ তাঁর নিজের নির্বাচন কেন্দ্রে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব নিয়ে জেরবার। জানা গিয়েছে, মমতা তাঁকে বলেন তুমি বাইরে সামলাবে কী আগে ঘর সামলাও।
বাংলায় শাসক দলের আগে পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা ছিল। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করতে পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা তুলে দেয় তৃণমূল। কারণ শুভেন্দু একাই পাঁচ জেলার দায়িত্বে ছিলেন। দলের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, শুভেন্দু বিজেপিতে যেতে পারে। অন্তর্ঘাত ঠেকাতে সেই পদক্ষেপ করেছিলেন মমতা-অভিষেক। তবে সরাসরি পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা ফিরিয়ে না আনলেও অরূপ বিশ্বাসকে দুই বর্ধমান দেখতে বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠকে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তাঁকে আসানসোলে ফের প্রার্থী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা।