
ওনাকে বলুন, যাতে তাড়াতাড়ি এই বিলে উনি সই করে দেন, মমতার ঠেস বিজেপিকে।
শেষ আপডেট: 3 September 2024 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় ধর্ষণ বিরোধী বিল নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের মুখের উপর জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, এখন এই বিল রাজ্যপালের কাছে যাবে। ওনাকে বলুন, যাতে তাড়াতাড়ি এই বিলে উনি সই করে দেন। উনি তাড়াতাড়ি সই করে দিলেই বিল কার্যকর হবে। রাজ্যপালের সইয়ের পর বিল কার্যকর না হলে দায়িত্ব আমাদের। মমতা আরও বলেন, রাজ্যপালের অনুমোদন পেলেই তা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে যাবে। তিনি সই করলেই এটা আইন হিসেবে কার্যকর করা হবে। তার দায়িত্ব আমাদের।
মমতার অভিযোগ, কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে নির্লজ্জ রাজনীতি হচ্ছে। বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। মনে রাখবেন, বাংলাকে বদনাম করলে আপনার গায়েও তা লাগবে। আমার গায়েও লাগবে। আমাকে এবং বাংলাকে নিয়ে সবসময় কুৎসা চলছে। আমরা যদি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের বিরুদ্ধে বলি তাহলে কী করবেন?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় লজ্জা। ওনার পদত্যাগ চাই। উনি দেশের মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় ধর্ষণ বিরোধী বলের সপক্ষে বলতে গিয়ে এই দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইন প্রণয়নের উপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা সব ঘটনারই তীব্র নিন্দা করছি ও ধিক্কার জানাচ্ছি। কিন্তু, মোদী এবং অমিত শাহ মিলে দেশের নারীদের সম্মান ও সুরক্ষায় কিছুই করতে পারেননি। তাই আমরা নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ চাই, আমরা অমিত শাহের পদত্যাগ চাই। নরেন্দ্র মোদী দেশের জাতীয় লজ্জা বলে বিধানসভায় তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
এদিন বিধানসভায় অপরাজিতা মহিলা ও শিশু (পশ্চিমবঙ্গ ফৌজদারি আইন সংশোধন) বিলটি পেশ করেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। এ কারণে দুদিনের বিশেষ অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিল পেশের পর আলোচনা শেষে বিরোধীরা সমর্থন করায় সর্বসম্মতিক্রমে তা পাশ হয়ে যায়।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে এদিন খড়্গহস্ত হয়ে মমতা জোর গলায় বলেন, আমরা চাই দোষীদের ফাঁসি হোক। কামদুনিতেও আমরা অপরাধীদের ফাঁসির দাবি করেছিলাম। কিন্তু, ধর্ষণ ও খুনের মতো নৃশংস ঘটনায় বিজেপি এবং সিপিএম রাজনীতি চালাচ্ছে। বিরোধিতা ও প্রতিবাদের রাজনীতিতে কে একনম্বর সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে ওরা। এই সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে বিজেপি সদস্যরা হল্লা জুড়ে দিলে মমতা হাতজোড় করে বলেন, আমি হাতজোড় করে তোমাদের বলছি, আমার কথা শোনো। আপনারা চুপ না করলে আমি কথা বলব না।
সিপিএম আমলে কোনও মহিলা থানা ছিল না, এই অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, আমরা আসার পরে ৩৯টি মহিলা থানা করেছি। এদিন ভাষণের শুরু থেকেই মমতার মধ্যে একটি ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা আবেগ করছিল। বহুদিন পর এমন পরিণত, সুসংবদ্ধ, আবেদনশীল অথচ আক্রমণাত্মক বক্তৃতা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।